December 06, 2019

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

নিজের ৭০০তম ম্যাচে অনন্য মেসি

image-109399-1574937940

বার্সেলোনার হয়ে ক্যারিয়ারের ৭০০তম ম্যাচ খেলতে নেমে ন্যু ক্যাম্পে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলের দারুণ এক জয় পেয়েছে মেসির বার্সেলোনা। নিজের ইতিহাস গড়ার ম্যাচে এক গোল করে ৬১৩তম গোলের রেকর্ড স্পর্শ করলেন মেসি। এছাড়া লুইস সুয়ারেজ ও আঁতোয়ান গ্রিজম্যান করেন একটি করে গোল। ঘরের মাঠে বড় এই জয়ের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ১৬ নিশ্চিত করল কাতালানরা।

ম্যাচ শেষে বার্সা কোচ আর্নেস্টো ভালভার্দে বলেছেন, ‘সে একজন অসাধারণ খেলোয়াড়। পরিসংখ্যানই বলে দেয় সে কি মানের খেলোয়াড়। তার পারফরমেন্সেই বার্সেলোনা এতদূর এসেছে, এতে কোন সন্দেহ নেই।’

ইংল্যান্ডের জেসন সানচো ডর্টমুন্ডের হয়ে ৭৭ মিনিটে এক গোল পরিশোধ করলেও তা জার্মান জায়ান্টদের নক আউট পর্ব নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিলনা। গ্রুপ-এফ’র শীর্ষ দল হিসেবে বার্সেলোনা পরের রাউন্ডে উঠলেও দ্বিতীয় দল হিসেবে ডর্টমুন্ড ও ইন্টার মিলানের মধ্যে লড়াইটা অব্যাহত রয়েছে। পাঁচ ম্যাচ পরে উভয় দলেরই সমান ৭ পয়েন্ট করে সংগৃহীত হয়েছে।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে স্লাভিয়া প্রাগকে ঘরের মাঠে হারাতে পারলেও শেষ ১৬’তে যেতে হলে সান সিরোতে মিলানের কাছে বার্সেলোনার পরাজয় এড়াতে হবে ডর্টমুন্ডের।

ভালভার্দে বলেন, ‘এবারের মৌসুমে আমার মতে সবচেয়ে কঠিন গ্রুপে আমরা পড়েছি। যদিও এক ম্যাচ হাতে রেখেই আমরা গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে পরের রাউন্ডে গেছি। এটা খেলোয়াড়দের জন্য অনেক বড় একটি পাওয়া।’

সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াল যেখানে নিজেদের ক্রমেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেখানে ফলাফল অনুকূলে থাকলেও বার্সেলোনা নিজেদের গুছিয়ে উঠতে পারছেনা। যদিও গোল ব্যবধানে রিয়ালকে পিছনে ফেলে বর্তমানে লা লিগা টেবিলের শীর্ষে রয়েছে কাতালান জায়ান্টরা। তবে দলের সুপারস্টার মেসি রয়েছেন দারুণ ছন্দে। শেষ ৯ ম্যাচে তার কাছ থেকে এসেছে ১০ গোল। সোমবার প্যারিসে ঘোষণা করা হবে এ বছরের ব্যালন ডি’অর। মেসির সাথে এবার এই পুরস্কার হয়ে লিভারপুল ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইকের একটি কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে অনেকেই ধারণা করছেন।

বার্সেলোনার হয়ে ৭০০ ক্লাব ম্যাচে ৬১৩ গোল করার পাশাপাশি ২৩৭টি গোলে সতীর্থদের সহযোগিতা করেছেন। কালকের ম্যাচে বার্সেলোনার জন্য একমাত্র দুঃশ্চিন্তার বিষয় ছিল ওসমানে ডেম্বেলের ইনজুরি। প্রথমার্ধে আরো একবার পেশীর ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ডেম্বেলে। ২৬ মিনিটে তার জায়গায় খেলতে নামেন গ্রিজম্যান। ডিসেম্বরের শেষে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে তার খেলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে ২১ সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মত মূল একাদশে খেলতে নেমেছিলেন ইভান রাকিটিচ।

প্রথম মিনিটেই ডর্টমুন্ডের একটি সহজ সুযোগ স্যামুয়েল উমতিতি ও মার্ক-আন্দ্রে টার স্টেগানের কারণে ব্যর্থ হয়ে যায়। অন্যদিকে রাকিটিচের শট আটকে দেবার পর সুয়ারেজের গোল অফ-সাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। ২৯ মিনিটে অবশ্য মেসির পাস থেকে সুয়ারেজ ডর্টমুন্ড গোলরক্ষক রোমান বুরকিকে পরাস্ত করলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা।

৩৩ মিনিটে সুয়ারেজের সহায়তায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি। ৬৭ মিনিটে আবারো গোল পায় বার্সেলোনা। এই গোলেরও যোগানদাতা ছিলেন মেসি। এবার অবশ্য গোলটি দিয়েছে ফ্রেঞ্চ তারকা গ্রিজম্যান। ম্যাচ শেষের ১৩ মিনিট আগে বদলী খেলোয়াড় সানচো ডর্টমুন্ডের হয়ে সান্তনাসূচক এক গোল পরিশোধ করেছেন।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *