October 24, 2019

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরিদর্শক বিজয় কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে ত্রাশ, দূর্ণীতিবাজ, ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের পাহাড়

_RAH0077

 

 

লিয়নঃ কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জাতি গঠনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সারা দেশে কারিগরি জ্ঞান প্রসারের মাধ্যম হচ্ছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ শাখা হচ্ছে পরিদর্শন শাখা। পরিদর্শন শাখার মত গুরুত্বপূর্ণ শাখায় গুরুত্বপূর্ণ পদে উপ-পরিদর্শক হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি শিক্ষা বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা, শীর্ষ ঘুষখোর দূর্নীতিবাজ বিজয় কুমার ঘোষকে শিক্ষা বোর্ডের ডেপুটেশনে নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত তার অবৈধ উপার্জনের ভাগ নিচ্ছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাহাড়সম ঘুষ-দূর্নীতি করার অভিযোগের পরও চার বছর পর্যন্ত বহাল তবিয়তে আছে উক্ত বিজয় কুমার ঘোষ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার সকল সুনামকে ম্লান করে দিচ্ছে এই ঘোষ। তার গ্রামের বাড়ী সিরাজগঞ্জ জেলায় শাহজাদপুর উপজেলায় চালায়। ২০০৫ সালে প্রভাষক পদে চাকুরীতে যোগদান করে মন্ত্রণালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ২০০৯ সালে মাউশির ডিজির পিএস হিসেবে নিয়োগ নিয়া শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন করিয়ে দেওয়ার নামে ঘুষ বাণিজ্যের কারণে তাকে সেখান থেকে অপসারণ করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে বদলী করেন। সেখানেও ব্যাপক দূর্ণীতির কারণে কর্মচারীদের রোষানলে পড়ে গনপিটুনীর স্বীকার হন। শিক্ষা মন্ত্রী ও মন্ত্রীর পিএস, এপিএস এর সহায়তায় ডেপুটেশনে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শন শাখায় উপ-পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণারয়ের কারিগরি শিক্ষা বিভাগের তৎকালীন উপ-সচিব ও অতিরিক্ত সচিব-রা তার ন্বজাতির কারণে তাদের সহায়তায় তৎকালীন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের ঘাড়ে বসে বীরদর্পে বোর্ডের সকল সেক্টরে আদিপত্য বিস্তার করে। মন্ত্রণারয়ে যোগাযোগের জন্য দুটি স্থায়ী পাশের ১টি তার নিজ নামে শুরু করেন মন্ত্রণালয়ে যাতায়াত। যে কারণে মন্ত্রণালয়ের অনেকের সাথে তার অবৈধ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক গড়ে উঠে। শিক্ষামন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল, ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল, টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার, ডিপ্লোমা ইন ফিসারিজ, ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল সার্টিফিকেট কোর্স শিক্ষাক্রমের শাখা সংযোজন, আসন বৃদ্ধি, নাম ও স্থান পরিবর্তন এবং ব্যবস্থাপনা কমিটি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর উদ্যোশ্যমূলকভাবে দায়িত্ব নেয় স্বউদ্যোগে তার উপর। এসকল দায়িত্ব ছাড়াও বোর্ডের সকল শাখায় একচ্ছত্র আদিপত্য বিস্তার করে শিক্ষা মন্ত্রণারয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপ-সচিবদের সাথে ওঠা বসা, মন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পিএস, এপিএসদের সাথে তার দহরম-মহরম ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে মর্মে তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে বীরদর্পে ঘুষ-দূর্ণীতিসহ সকল অপকর্মের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকার ঘুষ বানিজ্য করছে। এমনকি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সকল ট্রেড ও নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন নেওয়ার ব্যাপারে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রেডের কারিকুলাম বিশেষজ্ঞদের অবৈধ চাপ প্রয়োগ করে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান, একাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান করিয়ে দিচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৮ সালে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে এমপিওভুক্তির আবেদনের সাথে একাডেমিক স্বীকৃতির কপি সংযুক্তির প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ উপ-পরিদর্শক বিজয় কুমার ঘোরেষর সহিত যোগাযোগ করলে তিনি অ্যাফিরিয়েশন প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে বেআইনীভাবে পাঠদান নবায়ন দিবে বলে ভয় দেখিয়ে পরবর্তীতে মোটা অংকের উৎকোচের মাধ্যমে, একই তারিখে ৩০টি কৃষি ও ফিশারীজ ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান করেন। একাডেমিক স্বীকৃতির জন্য বাউফল কৃষি ও প্রযুক্তি ইন্সটিটিউট হতে ১ লক্ষ টাকা এবং বরগুনা কৃষি ও প্রযুক্তি ইন্সটিটিউট হতে ১ লক্ষ টাকা এবং কমিটি অনুমোদন দেয়ার জন্য ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন ঘোষ। এছাড়া পটুয়াখালী কৃষি ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউটের আ্যাফিরিয়েশন বাতিল করার ভয় দেখিয়ে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে ৫০ হাজার টাকা ও ২৬ আগষ্ট ২০১৯ তারিখ আসন/ব্যাচ বৃদ্ধির জন্য ২৫ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করে এবং পরিদর্শণ পরবর্তীতে ব্যাচ বৃদ্ধির জন্য আরও ২ লক্ষ টাকা দাবি করেন এই ঘোষ। এভাবে দেশের অগনিত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন অযুহাতে কোটি কোটি টাকার ঘুষ বানিজ্য করছেন তিনি। ঘুষ দূর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দ্বারা বিজয় কুমার ঘোষ তার গ্রামের বাড়ী সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে উপজেলায় চালায় ১৮ শতাংশ জমির উপর প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় বিশাল প্রসাদসম ৫-তলা বাড়ী নির্মাণ করে। এ ছাড়াও ১১/৪, প্লট-১১, সড়ক-৪, রুপনগর, মিরপুর, ঢাকায় অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট কিনে সেখানে নিজে বিসবাস করছেন। দূর্ণীতিবাজ বিজয় কুমার ঘোষ হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করিয়া পশ্চিম বঙ্গের বারাসাত প্লট ও ফল্যাটসহ শত শত কোটি টাকার সম্পদ ও সম্পত্তি। কোন প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ তাগের প্রতিষ্ঠান নিয়া বিপদে পড়ার ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না। সরকারি চাকুরীতে ৩ বছর পর বদলীর বিধান আছে কিন্তু তার বেলায় সেই বিধানও কার্যকর নাই। তার বিরুদ্ধে গুষ দূর্ণীতির পাহাড়সম াবিযোগ থাকার পরেও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণারয়ে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস রাখে না। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের যেকোন ধরনের কাজের জন্য বিজয় কুমারের দ্বারস্থ হতে হয়। তার স্মরণাপন্ন হওয়া ছাড়া বোর্ডের কোন কার্য সম্পাদন করা অসম্ভব। চেয়ারম্যানও তাকে সমীহ করে চলে। পুরো কারিগরি বোর্ড তার কথায় চলে। এখানে চেয়ারম্যান বা পরিচালকের কোন ভ’মিকাই নেই। দেশের প্রত্যেকটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান যেন তার কাছে অসহায়/জিম্মি। তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত সচিব থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান বরাবরে শতাধিক ভ’ক্তভোগী অভিযোগ দিয়েও কোন ফল হয়নি। ইতোমধ্যেই জাতীয় দৈনিকগুলোতে ত্রা ঘুষ ও দূর্ণীতির সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যা মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। তার দ্বৈত নাগরিকত্বি থাকার কারণে বৎসরে বৈধ ও অবৈধভাবে বহুবার পুরো পরিবার নিয়ে ভারতে ভ্রমণ করেন। এ ভ্রমণে তিনি এদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করা টাকাগুলো কাজে লাগিয়ে থাকেন। বর্তমানে এই দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তা ১২ দিনের সফরে স্বপরিবারে ভারতের বারাসাতে নিজ বাসিতে অবস্থান করছেন। ঘুসখোর দূর্ণীতিবাজ উপ-পরিদর্শক বিজয় কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে বিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়গণের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছে। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোঃ হানিফ উল্লাহ, প্রতিষ্ঠাতা, পটুয়াখালী কৃষি ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট, বাউফল, পটুয়াখালী।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *