September 19, 2019

বদলে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম

বিদেশে স্টেডিয়াম দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। ইউরোপ বা ল্যাটিন আমেরিকার কথা বাদই দিলাম। প্রতিবেশী কলকাতার ইডেন গার্ডেন ও সল্টলেকের সৌন্দর্য মুগ্ধ করার মতো। অথচ বাংলাদেশের স্টেডিয়ামগুলোর যে বেহাল দশা যা দেখলে শুধুই হতাশা বাড়ে।ব্যতিক্রম শুধু মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। ক্রিকেট বোর্ড নিজ অর্থায়নে স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য এমনভাবে বাড়িয়ে তুলেছে বিদেশিরা দেখেও প্রশংসা করেন। মিরপুর কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান বা ১ নম্বর স্টেডিয়াম নয়।বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামই দেশের ১ নম্বর জাতীয় স্টেডিয়াম।

১৯৯৮ সালে ঢাকা স্টেডিয়ামের নাম জাতির জনকের নামে করা হয়। সেই স্টেডিয়ামের বেহাল দশা কি মানা যায়? গ্যালারির যাচ্ছেতাই অবস্থা, ভাঙা চেয়ার ও ময়লা আবর্জনায় ভরপুর।এমনকি খেলার মাঠও উপযোগী নয়। অবাক লাগে সারা বিশ্বে যখন কৃত্রিম বা এসট্রো টার্ফ মাঠে খেলা হয়।সেখানে বঙ্গবন্ধুতে ঘাসের মাঠ। তাই তো অল্প বৃষ্টি হলে মাঠ যেন ধানখেতে পরিণত হয়। বিদেশি দল খেলতে এলেই ড্রেসিং রুম, রির্জাভ বেঞ্চের ছাউনি এমন কি মিডিয়া বক্স নিয়েও আপত্তি তুলে। সত্যি বলতে কি এসব কোনোটাই আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন নয়। জাতীয় স্টেডিয়াম থাকবে চোখে পড়ার মতো।তা ছাড়া সেখানে বঙ্গবন্ধুর নামটি জড়িত। আশার কথা শেষ পর্যন্ত টনক নড়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ঘোষণা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম সংস্কারের। ২০০৪ সালে এই স্টেডিয়াম ফুটবলের জন্য দেওয়া হলেও এরপর অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক, মাঠ, গ্যালারি কোনো কিছুর সংস্কার করা হয়নি। ২০১১ সালে আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ারপ্রীতিম্যাচ উপলক্ষে শুধু ড্রেসিং রুমের সংস্কার করা হয়। তাও অল্প দিনে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আর ক্রিকেটের জন্য চেয়ার বসানো হলেও ১৯৭৮ সালের পর গ্যালারি সংস্কার করা হয়নি। এমনও গ্যালারি আছে যা পঞ্চাশের দশকে তৈরি। যে কোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।১৯৭০ সালে এক ফুটবল ম্যাচে গ্যালারির এক পাশ ভেঙে ১০ জনের মৃত্যুও হয়। কথা হচ্ছে সংস্কার ও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম বদলে দেওয়ার ঘোষণা এসেছে, তা কীভাবে হবেÑ এ ব্যাপারে গতকাল কথা হয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব মাসুদ করিমের সঙ্গে। তিনি বলেন জাতির জনকের শতজন্মবার্ষিকী সামনে রেখেবঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম সংস্কার করতে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে নক্শা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখানো হয়েছে। তিনি এ নিয়ে তার মন্ত্রী পরিষদেও আলোচনা করেছেন। একনেকে অনুমোদিত এ প্রজেক্টে ব্যয় হবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। অন লাইন ও  প্রিন্ট মিডিয়াতেও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এসব যাচাই-বাছাইয়ের পর আমরা কাজ শুরু করব। সচিব জানান, আমরা বেশ কিছু বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিচ্ছি। সব কিছু চূড়ান্তের পর তা মিডিয়ার কাছে তুলে ধরা হবে। তবে এতটুকু বলতে পারি আমরা যেভাবে সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়েছি তাতে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য বাড়বে।bd-pratidi-1--28-08-2019-10

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *