October 19, 2019

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

সব নাগরিকদের সমান অধিকার : প্রধানমন্ত্রী

image-111090

বাংলাদেশে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার সমান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কেউ এখানে পিছিয়ে থাকবে না। নিজেকে অবহেলিত না ভাবতেও সমার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৫০০ জন সদস্যকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন সরকার প্রধান। এদের মধ্যে ২০ জনকে নিজে চেক তুলে দেন শেখ হাসিনা।

বৃত্তি নিতে আসা সমতলের সাঁওতাল গারো, মুন্ডা, ওরাও, হাজং, ত্রিপুরা, হাজং, মাহাতো, পাইন, রবিদাস, রাখাইন, মণিপুর, কোচ, পাহাড়ি, কোল, খাসিয়া, বর্মণ, মং, ঢলী সম্প্রদায়ের সদস্যের মধ্যে ১৮০ জন নারী শিক্ষার্থী। তারা সবাই উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সৃষ্ট বাংলাদেশে নাগরিকদের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকার কারণ নেই বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এখানে কেউ নিজেকে এটা মনে করলে চলবে না যে, আমরা ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী বা আমরা কেউ অবহেলিত। সেটা কেউ ভাবলে চলবে না। সকলকে ভাবতে হবে এ দেশের নাগরিক সবাই এবং প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার। সকলেই সমান অধিকার ভোগ করবে আমার এই বাংলাদেশে। ধর্ম বর্ণ জাতি গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকার থাকবে। সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই, সেটা আমরা নিশ্চিত করব এবং এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

‘দেশটা আমাদের এই কথাটা মনে রেখে যার যার ক্ষেত্রে তারা কাজ করে যাবে। আজকে যারা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে, মেডিকেল পড়ছে, যার যার সাবজেক্টের ওপর পড়াশোনা করছে তারাই একদিন আমাদের দেশ গড়ার কাজে অনেক বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে চেক নেওয়া ২০ জন তাদের নিজ নিজ গোষ্ঠীর নিজ ঐতিহ্যের পোশাক পরে আসেন। আর এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে ধন্যবাদ জানান। বলেন, ‘বাংলাদেশের বৈচিত্র্য আমাদের বিরাট সম্পদ। এটাকেও আমরা সুন্দরভাবে তুলে ধরতে চাই।’

‘সবাই নিজ নিজ গোত্রের পোশাক পরে যে এসেছে, খুবই সুন্দর লেগেছে। সে জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। … কাজের প্রয়োজনে মানুষ পোশাক পরিচ্ছদ পরবে, কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু নিজের সংস্কৃতি, নিজের স্বকীয়তা, সেটাও মাঝেমাঝে প্রকাশ করা প্রয়োজন। তাতে মানুষ দেখতে পারে বৈচিত্র্যটা কত চমৎকার, সেটা দেথার একটা সুযোগ হয়।’

‘নিজস্ব কিছু কাজ, নিজস্ব কিছু স্বকীয়তা আছে, সেটাও বজায় রাখতে হবে। যার যার পেশা, সেটাও ফেলে দিলে চলবে না। সে পেশাটাকেও ধরে রাখতে হবে এবং সেটাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে যেন আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখে সে দিকেও তোমাদের বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে।’

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে সরকারের নানা উদ্যোগ এবং চিন্তা আছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। জানান, এ জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করে প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, সংস্কৃতির বিকাশের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে করে সবাই সুন্দর জীবন পায়।

‘আমরা আমাদের দেশের উন্নয়নটা যখন চাই, তখন যে কোনো শ্রেণি পেশার মানুষের জন্য চাই। যে কারণে এ দেশের সর্বশ্রেণির, শুধু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশে ছড়িয়ে আছে তা নয়, আমাদের দলিত শ্রেণি, হিজরা, চা শ্রমিক সকলেরই ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যেমন চা শ্রমিক, তাদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ আছে।

তাদের শিক্ষা, দীক্ষা, সেনিটেশন, পানির ব্যবস্থা, বসতবাড়ির ব্যবস্থা, সেগুলোর দিকেও আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে তাদেরকে আমরা বিশেষ সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’নিজ নিজ সংস্কৃতি ধরে রাখার পাশাপাশি পেশায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেকে এবং দেশকে উন্নত করারও তাগিদ দেন শেখ হাসিনা।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। পরে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তোলেন।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *