June 22, 2018

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

যথাযথ মর্যাদায় সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন, সশস্ত্র বাহিনীকে ক্ষমতা দখলে ব্যবহার করিনি: প্রধানমন্ত্রী

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে গতকাল সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ l ফোকাস বাংলাবাসস | নভেম্বর ২২, ২০১৬ |

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম: যথাযথ মর্যাদায় গতকাল সোমবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো সশস্ত্র বাহিনীকেÿক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেনি। বরং বরাবরই চেয়েছে একে একটি শক্তিশালী, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে।
সকালে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁদের অভিবাদন জানায়। এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণ প্রাঙ্গণে রাখা দর্শনার্থী বইয়ে সই করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে (এএফডি) যান। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নিজামউদ্দিন আহমদ ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বিকেলে সেনাকুঞ্জে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা l ফোকাস বাংলাএ ছাড়া বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বঙ্গভবনে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিন বাহিনীর প্রধানেরা।
সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী ও খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সবকিছু করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী ও খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন উপহার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি যুদ্ধ ও শান্তির সময় বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য সেনাবাহিনীর পাঁচ কর্মকর্তাকে বাহিনী পদক ও ওসমানী সেবা পদক প্রদান করেন।
বিকেলে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীকে জাতির অহংকার হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে কাজ করেছে। কারণ, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। সশস্ত্র বাহিনীকে ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বারবার ক্যু করে সশস্ত্র বাহিনীর শত শত অফিসার-সৈনিকদের হত্যা করিনি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছি শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপন করে একে একটি সুন্দর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে এবং এই সশস্ত্র বাহিনী যেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হয়।’
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাসে আজকের দিনটি বিশেষ গৌরবময়। স্বাধীনতাযুদ্ধে বিজয়কে ত্বরান্বিত করতে ১৯৭১ সালের এই দিনে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা যৌথভাবে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সূচনা করেন। সর্বস্তরের মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর সঙ্গে সম্মিলিত বাহিনীর ঐক্যবদ্ধ আক্রমণে পর্যুদস্ত দখলদার বাহিনী আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। যার ফলে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সশস্ত্র বাহিনীর যে সুদৃঢ় ভিত্তি রচনা করে গেছেন, তারই ওপর দাঁড়িয়ে আজ আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারি ও কর্মদক্ষতার পরিচিতি দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত ও প্রশংসিত।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। পদ্মা সেতুর আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ ও নিরাপত্তার জন্য একটি কম্পোজিট ব্রিগেড গঠন করা হয়েছে। মিঠামইনে একটি রিভারাইন ব্রিগেড প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই লেবুখালীতে একটি পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করা হবে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্রিগেড পর্যায়ে স্পেশাল ফোর্স গঠনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, সাংসদেরা, তিন বাহিনীর প্রধানেরা, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *