November 28, 2020

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

করোনা মোকাবিলায় ১ হাজার কোটি টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন অর্ডার করেছি

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে। আমাদের দেশেও দ্বিতীয় ঢেউ হিসেবে আসা শুরু করেছে। তিনি বলেন, করোনা প্রতিরোধে আমরা আগাম  প্রস্তুতি নিয়েছি। ১ হাজার কোটি টাকা দিয়ে আগাম করোনার ভ্যাকসিন অর্ডার করেছি।যখনই এটা কার্যকর হবে তখনই যেন বাংলাদেশের মানুষ পায় আমরা সে ব্যবস্থা নিয়েছি।

গত রাতে জাতীয় সংসদে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যের জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বিরোধীদলীয় উপনেতা স্কুল খুলে দিতে বলেছেন। এ প্রসঙ্গে আমি কিছু বলতে চাই। করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর আমেরিকায় স্কুল খুলেছিল। দ্বিতীয় ঢেউ দেখা দেওয়ার পর এখন কিন্তু স্কুল তারা বন্ধ করেছে।আমরাও স্কুল খোলার পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউ দেখা দেওয়ায় তা করা হচ্ছে না। কারণ এটা সংক্রামক ব্যাধি। বাচ্চাদের একটানা ঘরে থাকতে কষ্ট হচ্ছে, তা ঠিক। আগে তো একান্নবর্তী পরিবার ছিল। তখন তো সবাই একসঙ্গেই থাকত। আমরা এখন কেন ছেলেমেয়েদের জন্য ঝুঁকি নেব? তাদের মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না। তিনি বলেন, অটো প্রমোশন নিয়েও নানা কথা হচ্ছে। অটো প্রমোশন তো ছিল না। আমরা ক্ষমতায় আসার পর সেমিস্টার সিস্টেম চালু করেছিলাম।কাজেই যারা সারা বছর পরীক্ষা দিয়েছে, সেগুলো মিলে যদি রেজাল্ট দেওয়া যায়, সেটা খারাপ কীসের? এটা ভালো হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সব জায়গায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আমাদের সচেতন হতে হবে। মাস্ক পরা, গরম পানি দিয়ে একটু গড়গড়া করা দরকার। ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা দরকার। তাহলে সবাই সুস্থ থাকব। এ ছাড়া যখন বেশি মানুষের কাছে যাব, তখন যেন মাস্ক পরে যাই।বঙ্গবন্ধুর বাকশাল গঠন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা সব ব্যক্তি, সব দলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করেছিলেন। লক্ষ্য ছিল দেশকে দ্রুততার সঙ্গে উন্নয়ন করা। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে মানুষের উন্নয়ন করা। কিন্তু তাঁকে সে সুযোগ দেওয়া হয়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁকে হত্যা করা হলো। তারপর নানা অপপ্রচার চালানো হলো। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাকশাল গঠনের আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা বাজিয়ে সংসদে সবাইকে শোনানোর জন্য স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান। সংসদ শেষ করার আগে জাতির পিতার ভাষণ শোনানো হয়।আগে ছিলাম ছোট জেলে, এখন আছি বড় জেলে : করোনাভাইরাসের কারণে গণভবনে ‘কারাবন্দী’র মতো জীবন অতিবাহিত করছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখন আমি একা। জেলখানার মতোই আছি। সেটাই আমার দুঃখ। আগে ২০০৭ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ছিলাম ছোট জেলে। এখন বড় জেলে আছি।গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকম-লীর সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।করোনা পরিস্থিতিতে বন্দীর মতো থাকলেও সব কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যখনই সভা করবেন বা কথা বলবেন আমাকে লিংক দেবেন। আমি যোগাযোগ করতে পারব। ভিডিওকলে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ করতে চান জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ তো আমার পরিবার। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সব সময় জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে চলবেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সময় দেখা যেত একটু হাঁচি দিলেও চিকিৎসার জন্য বিদেশ চলে যেত। কিন্তু করোনা বুঝিয়ে দিয়ে গেল টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদের কোনো মূল্য নেই। মনে হয় করোনাভাইরাস এসেছে মানুষকে শিক্ষা দিতে। আর করোনাভাইরাস আমাদের শিখিয়েছে দেশেই চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, আমরা জানি আমাদের সামনে আরও একটি ধাক্কা আসছে।ইতিমধ্যে অনেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সেটা ছড়াচ্ছে। তাই সবাইকে একটু স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, আমি এখন ঘরের মধ্যে একা, তাই মাস্ক পরছি না। কিন্তু লোকজন এলেই মাস্ক পরি। লোকজনের সামনে এলেই মাস্ক পরতে হবে। করোনা মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা ?তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসে যখন সারা বিশ্ব স্থবির; যখন অনেক উন্নত দেশ এটা সামাল দিতে পারছে না তখনো বাংলাদেশের অর্থনীতি কিন্তু আমরা থেমে যেতে দিইনি। এটা কেন পেরেছি? আমি জানি বিপদ এলে নার্ভাস হয়ে যেতে নেই। বিপদটাকে কীভাবে মোকাবিলা করব সেদিকেই লক্ষ্য রাখতে হবে।

আর সেভাবেই পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা সে কাজটিই করছি।

দলের নেতা-কর্মীদের নিজের বয়সের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আমি আবারও বলব চিরদিন কেউ বেঁচে থাকে না। আমিও থাকব না। কারণ আমারও বয়স হয়েছে। ৭৪ বছর পার হয়েছে।এটা মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জন্মালে মরতেই হবে, এটা ঠিক। কিন্তু আমি চেষ্টা করেছি সংগঠনকে আমার মতো গুছিয়ে দিতে। সে ক্ষেত্রে আমি বলব আমাদের সহযোগী সংগঠন যে কটা আছে, খুব দ্রুত একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে সম্মেলনগুলো করতে হবে। সম্মেলন হয়ে যাওয়া জেলা কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু সম্মেলন হয়েছে।

করোনার জন্য আমরা কমিটি করে দিতে পারিনি। সে কমিটিগুলো করতে হবে। কমিটি হয়ে গেলে অনেক কাজ সহজ হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি নিজের দিকে তাকাই না। নিজে কী পাব তাা দেখিনি। ছেলেমেয়েগুলোকে আমি আর রেহানা; আমাদের দুজনের কথা ছিল লেখাপড়া শেখো, এর বেশি আর কোনো সম্পদ দিতে পারব না। আমরা ঠিক সেটুকুই করেছি।তার পরও লেখাপড়া শেখা, সেটাও তারা নিজেরাই করেছে। মিশনারি স্কুলে সপ্তাহে এক দিন হয়তো মাংস দিত। আর সারা সপ্তাহ এই ডাল-ভাত খেতে হয়েছে; জয় ও পুতুল এভাবেই মানুষ হয়েছে। তারা তো এই বাংলাদেশকেও কিছু দিয়েছে। নিজেরা তো চায়নি। কার জন্য করেছে? দেশের মানুষের জন্য করেছে? কেন করেছে? মানুষকে আমার বাবা ভালোবেসেছেন, তাদের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন।

সেই মানুষগুলো যেন ভালো থাকে, আমরা সেটাই চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাই ডিজিটাল করে দিয়েছি, আমি অনেক টেলিভিশন দিয়ে দিয়েছি, মোবাইল ফোন দিয়ে দিয়েছি হাতে।আমাদের শহরে একদল লোক আছে, সবাই বসে বসে আমাদেরই দেওয়া জিনিস ব্যবহার করে আরামে আমাদেরই সমালোচনা করে। এটা হলো না, ওটা হলো না, কেউ বলছে গণতন্ত্রই নেই, আমার মাঝে মাঝে তাদের জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করে, গণতন্ত্র এখন নেই! তার মানে জিয়াউর রহমান যখন মার্শাল ল দিয়ে ওই হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা দখল করেছিল, তখন গণতন্ত্র ছিল? বা খালেদা জিয়া যখন ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালে ভোট চুরি করে ক্ষমতায় গেল, ওটা গণতন্ত্র? কিন্তু সাধারণ মানুষ তো মেনে নেয়নি। আন্দোলন করে তাদের উৎখাত করেছি। আবার বিএনপি সেই ২০০১ সালের পর কী হারে মেয়েদের ওপর পাশবিক অত্যাচার করেছে, ঠিক একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী করেছে, সেভাবে তারা করেছে।সেভাবে তারা করেছে। তার পরে অগ্নিসন্ত্রাস। তিনি আরও বলেন, এখন যে নির্বাচনগুলো হচ্ছে, উপনির্বাচনে তারা নামকাওয়াস্তে ক্যান্ডিডেট দেয়, খুব হইচই করে, তারপর ইলেকশনের দিন দুপুরবেলা পার হতে পারে না তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। আমি বলব, এটা তাদের পরিকল্পিত খেলা। তারা এটাই করবে, কারণ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। তিনি বলেন, তারা তো নিজেরাই স্বীকার করছে, তারাই আগুন (বাসে) দিয়েছে। কিন্তু তারা আগুন দেবে, আর তারা বলছে, সরকারি দল। সরকারি দল কেন করবে? ঠিক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে যখন আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হলো, তখন কি অপপ্রচার চলেছিল, নিশ্চয়ই মনে আছে সবার। বলেছিল, শেখ হাসিনা ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়ে মেরেছে! এভাবে তারা মিথ্যাচার করে। আমার মনে হয় দেশবাসীকেও এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত।তিনি আরও বলেন, আর আমাদের যারা সমালোচনা করেন, আমি বলি সমালোচনা করেন। আমাদের ক্ষতি নাই, সমালোচনা ভালো। সমালোচনার মধ্য দিয়ে আমরা জানতে পারি কোথাও কোনো ত্রুটি আছে কি না। কিন্তু মিথ্যা অপপ্রচার করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং সব থেকে দুর্ভাগ্য হলো শুধু দেশেই নয়, বিদেশিদের কাছে গিয়েও মিথ্যা অপপ্রচার করা হয়। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বদনাম করে আসা হয়। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্যের।তারা কিন্তু এ কাজটাই করে যাচ্ছে। তাতে যে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় তা তারা ভুলে যায়। তিনি আরও বলেন, হ্যাঁ, আপনারা লিখতে পারেন, লিখলে হয়তো আপনাদের পেপারের কাটতি হবে বা নিজেরা একটু আঁতেল হিসেবে ভালো স্মার্ট হবেন। অথবা আমাদের বিরুদ্ধে কিছু বলে আপনারা সংগঠনের জন্য ভালো ফান্ড আনতে পারবেন। বাংলাদেশকে এখনো দরিদ্র, ক্ষুধার্ত, গরিব দেখিয়ে কিছু ফান্ড আনতে পারেন!গরিব দেখিয়ে কিছু ফান্ড আনতে পারেন! সে ফান্ডটা যায় কোথায়? কী কাজে লাগে দেশের? তারও হিসাব দিতে হবে। চলেন কী করে, তাও দিতে হবে। ভবিষ্যতে সে হিসাব আমরা আস্তে আস্তে নিতে শুরু করব। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সম্পাদকমন্ডলীর সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।bd-pratidin-1-2020-11-19-04

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *