November 27, 2020

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য বাড়াতে আগামী ১০ বছরের জন্য একটি স্ট্র্যাটেজিক রোডম্যাপ তৈরির পরিকল্পনা

news_247686_1

নভেম্বর ১৮, ২০২০
জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। এজন্য আগামী ১০ বছরে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেআইটিও), জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই) এবং চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)। এজন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে এ তিন সংস্থা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে।
আগামী ২২ নভেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির উপস্থিতিতে এ বিষয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেবিসিসিআইয়ের জেনারেল সেক্রেটারি তারেক রাফি ভূঁইয়া বণিক বার্তাকে বলেন, একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি সই হবে। চুক্তির আওতায় জাপান ও বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জগুলো নির্ধারণে প্রথমে একটি কমপ্রিহেনসিভ রিসার্চ করা হবে। তাছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বেশকিছু কর্মশালার আয়োজন করা হবে, যাতে করে আমরা আগামী ১০ বছরের জন্য একটি স্ট্র্যাটেজিক রোডম্যাপ তৈরি করতে পারি।
তিনি বলেন, এরপর ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে আগামী ১০ বছরের জন্য কী ধরনের রেগুলেটরি সাপোর্ট দরকার, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জাপান ও বাংলাদেশের জন্য বিজনেস ডায়ালগ ফোরাম গঠন করতে চাই। এ ডায়ালগ ফোরামের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জগুলো দূর করতে রেগুলেটরি সাপোর্ট সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।
এদিকে সম্প্রতি এ বিষয়ে জেআইটিওর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ও জেবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট ইউজি আন্দো বাণিজ্য সচিব বরাবর একটি চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিদেশী বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার মধ্য দিয়ে দেশে সার্বিক বাণিজ্যিক পরিবেশের উন্নতি করা দরকার। কারণ বেসরকারি খাত সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ যদি ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন ঘটায়, তাহলে জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের বড় ব্যবসায়িক অংশীদার জাপান। আগামীতেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে চায় জাপান।
জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিনিয়োগ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে ১ হাজার ৫৭০ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ করেছে। সর্বশেষ বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ২১২ কোটি টাকা।
এ প্রসঙ্গে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারিভাবে জাপানের বিনিয়োগ অনেক। কিন্তু বেসরকারি বিনিয়োগ খুবই কম। তাই আমরা চাচ্ছি জাপানি বেসরকারি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক। এজন্য বেশকিছু উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। এ চুক্তির ভিত্তিতে গবেষণা করে যদি জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করা যায়, তাহলে তা খুবই ভালো হবে। সরকারও এর আলোকে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার উদ্যোগ নেবে।
এদিকে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি বেড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) জাপানে বাংলাদেশী পণ্য রফতানি হয়েছে ১১৭ কোটি ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি।
সিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম বলেন, ১০-১২ বছর আগে চট্টগ্রাম চেম্বার জাপানে অফিস স্থাপন করে জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আনার জন্য কাজ করেছে। জাপানি বিনিয়োগ আসুক এটা আমরা চাই। এজন্যই আমরা তিন প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ শুরু করতে চাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি জাপানের রাষ্ট্রদূত আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি আমাদের জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে তারা নতুন করে আরো ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবেন। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরীতে আরো এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *