November 18, 2019

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

ইউজিসিকে কঠোরভাবে নিয়মকানুন অনুসরণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ইউজিসিকে কঠোরভাবে নিয়মকানুন অনুসরণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তদারকি

বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে -প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে ফিফা সভাপতি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তদারকিতে কঠোরভাবে নিয়মকানুন অনুসরণ করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আইনের বাইরে যাবেন না এবং দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তদারকি করার ক্ষেত্রে নিয়মগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করুন।

চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে ইউজিসির একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজগুলোর প্রতিও নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন, বলেন প্রেস সচিব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি আইন তৈরির মাধ্যমে ইউজিসিকে শক্তিশালী করা হবে, ফলে এর সক্ষমতাও অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।

সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরদারির ক্ষেত্রে তারা কঠোরভাবে আইন অনুসরণ করে থাকেন উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়মের অনুমতি দেব না।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মঞ্জুরি কমিশনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য একটি নীতিমালার রূপরেখা প্রণয়ন করেছেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা শিক্ষকদের জন্য বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) মতো একটি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট চাই।

অধ্যাপক শহীদুল বলেন, দেশে বর্তমানে ১৫৫টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিয়ম খুঁজে পাওয়া গেছে।

এত বিপুলসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় পর্যবেক্ষণে কমিশনের জনবল বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, অতীতের জনবল নিয়ে ইউজিসি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে ফিফার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে -ফিফা সভাপতি : বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে আমরা আমাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখব। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে (পিএমও) বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসে এই আশ্বাস প্রদান করেন ফিফা সভাপতি।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাম্প্রতিক সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করে ইনফান্তিনো বলেন, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের ফুটবলের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

প্রেস সচিব বলেন, কলকাতায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খেলাটি আলোচনায় উঠে আসে।

ফিফা সভাপতি বলেন, ফুটবল থেকে অনেক কিছু শিক্ষণীয় রয়েছে, বিশেষ করে, শৃঙ্খলার বিষয়টি। তিনি বাংলাদেশে ফুটবলের উন্নয়নে সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন।

ফিফার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার জন্যও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) পরামর্শ দেন ইনফান্তিনো।

প্রধানমন্ত্রী ফুটবলকে দেশের একটি জনপ্রিয় খেলা হিসেবে উল্লেখ করে তার দাদা এবং বাবাও ফুটবল খেলতেন বলে স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার ভাই শেখ কামাল বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় খেলাধুলার সংগঠন আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা। দেশের খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ৪৯২টি মিনি স্টেডিয়াম স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে নতুন খেলোয়াড় অন্বেষণে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। আমরা জনপ্রিয় খেলা ফুটবলে ছেলেমেয়েদের অংশগ্রহণের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন, বাফুফের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী ও সহসভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বিএএফ সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রস্তাব ইতালির : ইতালির সফররত বিমানবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল অ্যালবার্টো রোসো বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বিমানবাহিনী (বিএএফ) সদস্যদের প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছেন।

প্র্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকালে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ইতালির বিমানবাহিনীর প্রধান এ প্রস্তাব দেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালির বিমানবাহিনীর প্রধানকে তার দেশে ফাইটার হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমানের ওপর বিএএফ সদস্যদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল অ্যাবার্টো রোসো সম্মতি জানান।

জেনারেল রোসো প্রধানমন্ত্রীকে জানান, বাংলাদেশে তার সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহ্ফুজুর রহমান, পিএমও সচিব সাজ্জাদুল হাসান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিও পালমা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ রাসেলের ওপর স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ওপর প্রকাশিত একটি স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী দুপুরে তার কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে স্মারক প্রকাশনা ‘হৃদয় মাঝে শেখ রাসেল’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

গ্রন্থটির উপদেষ্টা সম্পাদক এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি এবং গ্রন্থের সম্পাদক কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও প্রকাশক ইয়াসিন কবির জয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য লেখক মো. নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শেখ রাসেলের জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে জয়িতা প্রকাশনী সংস্থা শেখ রাসেলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে গ্রন্থটি প্রকাশ করে। ৯২ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থটিতে প্রায় একশটি ছবি স্থান পেয়েছে। যার অধিকাংশই দুর্লভ।

নবম জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর সংকলনের মোড়ক উন্মোচন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বিকালে তার কার্যালয়ে ‘৯ম জাতীয় সংসদ : প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর’ শিরোনামের ১১ খণ্ডের সংকলনের মোড়ক উন্মোচন করেছেন।

সংকলনের প্রধান সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। গ্রন্থনা ও সম্পাদনা করেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ইসতাক হোসেন এবং সহযোগিতায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এমএম ইমরুল কায়েস।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *