August 14, 2018

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

গরু পাচার বন্ধে মমতার কড়াকড়ি

image-34934গরু পাচার রুখতে আবার কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘যে নেতাই বলুক না কেন, একটাও গরু পাচার হবে না। এটাই আমার ফার্স্ট অ্যান্ড লাস্ট ওয়ার্নিং।’

এর আগেও উত্তর ২৪ পরগনায় প্রশাসনিক বৈঠকে এসে তিনি গরু পাচার বন্ধে নির্দেশ দিয়েছিলেন পুলিশকে। কিন্তু তাতে পাচার কিছুটা কমলেও, পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মঙ্গলবার ব্যারাকপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে এসে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘গরু পাচার কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’

ব্যারাকপুরের বৈঠকে বসিরহাটের আইসি নাসিম আখতারকে কড়া গলায় মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘একটা গরুও যেন এপার থেকে ওপারে যেতে না পারে। আমার দল বা অন্য দলের যেই এ কাজে জড়িত থাক না কেন, তা বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশকে সজাগ থাকতে হবে।’

উত্তর ২৪ পরগনার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ের কাছে মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, গরু পাচার রুখতে কী ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ?

সুপার জানান, শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হচ্ছে। একটা সময় ছিল, রাতের অন্ধকারে ফসলের ক্ষেত মাড়িয়ে কয়েকশ গরু পাচারের জন্য নিয়ে যাওয়া হতো সীমান্তের ওপারে। পাচারকারীদের আক্রমণে বিএসএফ জওয়ানদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

সেই পরিস্থিতি কিছুটা হলেও ঠেকানো গেছে বলে জানান সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীরা। প্রকাশ্যে ট্রাকে করে যশোর রোড বা বনগাঁ-চাকদহ সড়ক দিয়ে গরু পাচার তেমন চোখে পড়ছে না। তবে গাইঘাটা, গোপালনগর ও বাগদায় তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বসিরহাটে সড়ক পথে গরু পাচার প্রায় বন্ধ হলেও সুন্দরবনের নদী-জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পাচার এখনও চলছে। সরবেড়িয়া হয়ে নৌকা-ভর্তি করে গরু সুন্দরবনের জঙ্গলপথ ধরে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ভারতের।

তবে পাচারের কৌশলও বদলেছে পাচারকারীরা। ছোট গাড়িতে মুখ-পা বেঁধে ঠেসেঠুসে তিন-চারটে করে গরু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কখনও মোটর ভ্যানে দুই-তিনটি গরু তুলে উপরে বিচুলি চাপা দেওয়া হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি অংশ জানায়, বেআইনি এই কর্মকাণ্ডে রাজনীতির অনেক বড় মাথার প্রশ্রয় আছে। বনগাঁ ও সন্দেশখালিতে শাসক দলের দুই নেতার নামও উঠে আসছে।

পুলিশ মনে করছে, সব তথ্যই আছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। সেজন্যই এমন বার্তা দিয়ে গেলেন তিনি।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *