June 21, 2018

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

শাহরাস্তিতে ওয়ার্ড কাউন্সিলের নির্দেশে বিচারের নামে রিক্সা চালককে মাথা ন্যাড়া করে বাজারে প্রদর্শন।


জেলা সংবাদদাতা ঃ শাহরাস্তি পৌর সভার ১১ নং ওয়ার্ডের ভাটনীখোলায় নারী নির্যাতনের অভিযোগে স্থানীয় কাউন্সিলর ও প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি এক রিক্সা চালকের মাথা ন্যাড়া করে বাজারে প্রদর্শন করেছেন। এনিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে  ২৪ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় ঘটনার বিবরণে জানা যায় ভাটনী খোলা গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে রিক্সা চালক ইব্রাহীম প্রায় ১ মাস পূর্বে একটি রিক্সা করে সাহেব বাজার হতে ওয়ারুক বাজার যান। এ সময় ওই রিক্সায় তার সাথে অপরিচিত আরেক জন মহিলা ছিলেন এ ঘটনায় সাহাব উদ্দিন পাটওয়ারীর ছেলে রিপন পাটওয়ারী সহ কয়েক জন অভিযোগ তুলেন রিক্সা চালক ইব্রাহীম ঐ মহিলা নির্যাতন করেছেন। গত শুক্রবার দুপুরে রিপন পাটওয়ারী ইব্রাহীম কে পেয়ে আটক করেন। তাকে সাহেব বাজারে নিয়ে তার বিচার ডাকা হয়। ওই সময় স্থানীয় কাউন্সিলর নাজির হোসেন সহ তাকে বাজারের নাপিতের সহায়তায় তার মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয় । এরপর তারা ইব্রাহীমকে বাজারে হাটিয়ে জনগন কে দেখানো হয়। রাত ৮ টায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় । ঘটনার পর ইব্রাহীম চট্টগ্রাম চলে যায়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারী পুলিশ সুপারের নির্দেশে ওসি শাহরাস্তির সহযোগিতায় উপ-পরিদর্শক মাহে আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসেন। ইব্রাহীম জানান, প্রায় ১ মাস পূর্বে একটি কাজের জন্য সে উয়ারুক বাজারে যায়। তখন ঐ রিক্সায় একজন মহিলা ছিল কিন্তু ঐ মহিলার সাথে তার কোন যোগাযোগ হয়নি। গত শুক্রবার দুপুরে রিপন পাটওয়ারী তাকে আটক করে তার সাথে থাকা দুজন ছেলে তাকে মারধর করে সাহেব বাজারে নিয়ে যায়। তারা তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করে, আমি টাকা দিতে অপারকতা প্রকাশ করি। তারা ঐ মহিলাকে হাজির না করে আমার বিচার শুরু করে। কাউন্সিলর নাজির আহমেদ আমার মাথা ন্যাড়া করার নির্দেশ দেয়। এরপর আমাকে মাথা ন্যাড়া করে এবং বাজারে হাটিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আমি  এলাকা ছেড়ে চলে যাই। নাপিত শ্রীরুপ শীল জানায়, কৃঞ্চপুর গ্রামের বাবু ইব্রাহীমের মাথা ন্যাড়া করতে বল্লে আমি ইব্রাহীমের মাথা ন্যাড়া করি। প্রথমে আংশিক মাথা ন্যাড়া করলে তারা ইব্রাহীমকে বাজারে হাটিয়ে নিয়ে আসলে পরবর্তীতে পুরো মাথা ন্যাড়া করে দেই। থানায় উপস্থিত হয়ে শ্রীরুপ শীল এসব কথা বলে। এব্যপারে কাউন্সিলর নাজির হোসেন জানান, স্থানীয়রা বিচার করেছে, মাথা ন্যাড়া করার সময় উপস্থিত ছিলাম না। থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোঃ নূর হোসেন মামুন জানান, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।মাথা ন্যাড়া করে নারী নির্যাতন বিচারের এ হাল দেখে অনেকে অবাক হয়েছেন। তারা উক্ত ঘটনার যথাযথ বিচার দাবি করেছেন।

downloaddaf7f4dc__2fstorage_2fextSdCard_2fDCIM_2fCamera_2f20170228_102207_6

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *