October 19, 2018

ভালোবাসার টানে ব্রাজিল থেকে হবিগঞ্জে এলেন মধ্যবয়সী নারী

ভালোবাসার টানে ব্রাজিল থেকে হবিগঞ্জে এলেন মধ্যবয়সী নারী

ভালোবাসায় কী না হয়? সম্প্রতি প্রেমের টানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে বাংলাদেশে আসা এক তরুণীর খবর ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই রেশ কাটতে না কাটতে আবার ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবার সুদূর ব্রাজিল থেকে চলে এসেছেন মধ্যবয়সী এক নারী।

৪৭ বছর বয়সী ওই নারীর নাম সেওমা বিজেরা। সব বাধা পেরিয়ে পা রেখেছেন হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হালিতলা বারৈইকান্দি গ্রামে। ওই গ্রামের আসকান উদ্দিনের বড় ছেলে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের মার্স্টাস শেষ বর্ষের ছাত্র মো. আবদুর রকিবের বাড়িতে উঠেছেন তিনি। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এ ধরনের ঘটনা ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। খবর পেয়ে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে অসংখ্য লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন আবদুর রকিবের বাড়িতে।

ইতিমধ্যেই আবদুর রকিব ও সেওমা বিয়েও সেরে ফেলেছেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বেশ আন্তরিকতার সাথেই সেওমা কথা বলেন সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে। মো. আবদুর রকিব জানান, প্রায় ৯ মাস পূর্বে তিনি ফেসবুকে সেওমার আইডিতে লাইক দেন। সেওমাও তাকে লাইক দেন। এভাবেই শুরু। এভাবে চলতে চলতে একপর্যায়ে তাদের টেক্সট বিনিময়ের মাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই তাদের কথা হতো। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে সেওমা ব্রাজিলে বাংলাদেশের দূতাবাসে গিয়ে ভিসা সংগ্রহ করেন। ৯ মাস পর গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশে আসেন।

বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান মো. আবদুর রকিব। চলে আসেন নবীগঞ্জে। রকিবের পরিবারের আপত্তি না থাকায় গত ৩ জানুয়ারি হবিগঞ্জের নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে হাজির হয়ে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। পরে ইসলাম ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী ২ লাখ টাকার কাবিন রেজিস্ট্রি করে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

আবদুর রকিব বলেন, ‘ফেসবুকের সূত্র ধরেই আমাদের পরিচয় ও প্রেম। শেষ পর্যন্ত এখন আমরা সুখে শান্তিতে সংসার করছি। সেওমা বাংলা বলতে শিখেছে। আমার পরিবারের সকল সদস্য এখন খুবই খুশি। ‘

রকিব আরো জানান, সেওমা ব্রাজিলে পেশায় একজন স্কুলশিক্ষক। বর্তমানে সেওমা আইন বিষয়ে ব্রাজিলে লেখাপড়া করছেন।

সেওমা জানান, এর আগেও তার বিয়ে হয়েছে। ওই সংসারে ৩টি সন্তানও রয়েছে। এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলের নাম ইদুওয়ারদু এবং মেয়ে দেবুরা ও ব্রুনা। তবে আগের স্বামীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে অনেক আগেই। শনিবার সেওমা নবীগঞ্জ থেকে তার নিজ দেশ ব্রাজিলে চলে যাবেন। সেখানে গিয়ে তার স্বামীকে ব্রাজিল নেওয়ার জন্য কাগজপত্র তৈরি করে রকিবের কাছে পাঠাবেন।

নবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আলহাজ ছাবির আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘গ্রেমের টানে সুদূর ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশের ছোট্ট একটি গ্রামে এক মহিলার এভাবে ছুটে আসা সত্যিই বিরল একটি ঘটনা।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *