October 19, 2018

যবিপ্রবিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে পেটালো ছাত্রলীগ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু অন্তর দে শুভ নামে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা।

সোমবার বেলা ১২টার দিকে মৌখিক পরীক্ষা দেয়ার সময় শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ডিন ড. নাসিম রেজার কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নির্মমভাবে পেটানো হয়।

আহত শুভ যশোর পৌর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও যশোর শহরের ষষ্টীতলাপাড়া এলাকার রতন দে’র ছেলে।

তবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা দাবি করেছেন, এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

আহত শুভর পিতা রতন দে জানান, শুভ অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়। আজ সোমবার ছিল তার মৌখিক পরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান আগে থেকেই তাকে ভর্তি না হতে হুমকি দিয়ে আসছিল। তারপরও সে ভর্তি হতে গেলে তার উপর এ হামলা চালানো হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ছেলে নিরাপত্তার অভাবের কথা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি ও বিভাগের ডিনকে জানানো হয়েছিল। নিরাপত্তা চাইতে যশোর কোতয়ালি থানার ওসির কাছেও গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুভর ওপর হামলার ঘটনার সময় সেখানে ছাত্রলীগের শহীদ মশিউর রহমান হল শাখার সভাপতি শান্ত’র সমর্থকরা উপস্থিত সাংবাদিকদের ঘিরে রাখে। তারা সাংবাদিকদের ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণে বাধা দেয়।

শান্ত’র দাবি, ‘শুভ একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। সে ভর্তি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হবে।’

আহত শুভ জানান, দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম তাকে ভর্তি হতে দিতে চায় না। অথচ ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ কর্মী নাজমুল ইসলাম রিয়াদ হত্যা মামলার আসামি হয়ে শামীম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার হন। এরপরও তিনি হলে থাকছেন।

শুভ আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মশিউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শান্ত, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির ও তানভিরের নেতৃত্বে তার উপর হামলা হয়েছে।

জানতে চাইলে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা বলেন, আমরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে ব্যস্ত ছিলাম। শুনেছি বহিরাগত একটা ছেলে ক্যাম্পাসে এসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়েছিল। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তাকে মারপিট করেছে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন বলেন, শুনেছি অন্তর নামের এক ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে মারপিট করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত শুভ’র বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় দুইটির অধিক মামলা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আট বছরের ইতিহাসে শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে হামলার এমন ঘটনা ঘটেনি। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রোক্টর ড. মশিউর রহমান জানান, হামলার সময় তিনিসহ অন্যান্য শিক্ষকরা ওই পরীক্ষার্থীকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন। হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে ৩/৪জন শিক্ষক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে শিক্ষকরা তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিষয়টি লিখিতভাবে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ১৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দলীয় প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন ছাত্রলীগ কর্মী নাজমুল ইসলাম রিয়াদ। ওই ঘটনায় কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসানসহ চারজনকে বহিস্কার করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা জানান, তারা সকলেই হল দখল করে বিশ্ববিদ্যালয়েই অবস্থান করছেন। গোটা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কাছে জিম্মি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *