October 17, 2018

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

বিপন্ন রোহিঙ্গাদের সাথে মানবিক আচরণের তাগিদ

_92695829_74c263db-03f0-40c3-a313-cdf1c0966602

Image copyright এএফপি
Image caption বেশীরভাগ রোহিঙ্গাই টেকনাফের দুটি এবং কুতুপালংয়ের একটি অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরে এসে উঠছেন।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালংয়ে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের একটি শিবিরে গত আট বছর ধরে থাকেন মিয়ানমারের মংডু থেকে আসা মোহাম্মদ নূর।

বিবিসি বাংলার সাথে আলাপকালে মি. নূর বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে সহস্রাধিক পরিবার এসে উঠেছে তাদের ক্যাম্পে।

তাদের চলছে কিভাবে? মোহাম্মদ নূর বলছিলেন, “মুসলমান হিসেবে তাদেরকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি, আমাদের এক একটি পরিবারের সাথে তাদের দু-তিনটি করে পরিবার থাকছে। আমরা আমাদের খাবার তাদের সাথে ভাগাভাগি করে খাচ্ছি। খুব কষ্ট হচ্ছে। সরকারি বেসরকারি সাহায্য এখনো আসছে না, তবে কোনমতে দিন পার হয়ে যাচ্ছে।”

স্থানীয় বিভিন্ন অধিবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যাচ্ছে, বিগত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশে যত রোহিঙ্গা মুসলমান আশ্রয়ের জন্য প্রবেশ করেছে, তাদের বেশীরভাগই টেকনাফের দুটি এবং কুতুপালংয়ের একটি অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরে এসে উঠছে।

বাকী অনেকেই উঠছে কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আগে থেকেই অবস্থানরত আত্মীয়স্বজনের কাছে।

সরকার পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখবে এমন একটি বক্তব্য দিলেও কিভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানো হবে সে ব্যাপারে কক্সবাজারের স্থানীয় পর্যায়র সরকারি কর্মকর্তারা এখনো কোন দিকনির্দেশনা পাননি বলে জানাচ্ছেন।

জেলা প্রশাসক আলী হোসেন বলছেন, তিনি সার্বক্ষণিকভাবেই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।

আরও পড়ুন:

মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলমানদের জাতিগতভাবে নিধন করছে: জাতিসংঘ

বার্মা মানে নিশ্চিত মৃত্যু, বলছেন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা

রোহিঙ্গাদের উপর সহিংসতা: নানা দেশে প্রতিবাদের ঝড়

_92695831_6fdbbcd2-5225-40fa-ae1f-60b86de19b5fImage copyright ইপিএ
Image caption রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঢাকায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ

বেসরকারি সংস্থাগুলো, যারা মূলত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে কাজ করে, তাদের কেউ কেউ বিচ্ছিন্নভাবে পালিয়ে আসা এই রোহিঙ্গাদের সাহায্য সহযোগিতা দিচ্ছেন বলে সংবাদদাতা উল্লেখ করছেন, তবে সেটি ব্যাপক ভিত্তিক নয়।

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠন আইওএম বলছে, তাদের আগে থেকেই কক্সবাজারের অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য নানারকম সেবা দেবার ব্যবস্থা রয়েছে।

এখন নতুন করে যারা আসছে, তারাও সেই সেবা পাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে বাংলাদেশে আইওএমের মুখপাত্র পেপি সিদ্দিকের বক্তব্যে।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যগত সেবা, স্যানিটেশন, হাইজিন ইত্যাদির পাশাপাশি অংশীদারদের মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তাও দিয়ে থাকে আইওএম।

“সেখানে যেই থাকুক না কেন, তার যদি সত্যিকারার্থেই আমাদের এই সেবাগুলো প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটা সে পাবে।”

“এক্ষেত্রে আমরা কারো কাছে জানতে চাইছি না যে সে নতুন এসেছে নাকি আগে থেকেই আছে। ফলে সীমান্তের ওপাশে সাম্প্রতিক সহিংসতার কারণে যদি কেউ এপাশে চলে এসে থাকে, তারাও আমাদের সেবা পাওয়ার উপযুক্ত বলে পরিগণিত হচ্ছে।”

_92695833_6d98e721-60fb-4047-b328-86cc75f5636eImage copyright এএফপি
Image caption উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির

এদিকে মংডু সীমান্তবর্তী টেকনাফের একটি ইউনিয়ন হোয়াইক্যাং, যেখান দিয়ে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে, সেখানকার চেয়ারম্যান নূর আহমেদ আনোয়ারী বলছেন, স্থানীয়ভাবে অনেক বাংলাদেশিই পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করছেন এবং সাহায্য সহযোগিতা দিচ্ছেন।

জানা যাচ্ছে, সোমবার সকালে টেকনাফে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠক হয়, বৈঠকে স্থানীয় সংসদ সদস্যও অংশ গ্রহণ করেন এবং তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদেরকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তথ্য সন্নিবেশ করবার নির্দেশ দিয়েছেন।

এসব জনপ্রতিনিধিদের পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সাথে কোন ধরণের কোন খারাপ আচরণ না করবার জন্যও বলা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *