July 17, 2018

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চার হতে হবে সীমান্তে রোহিঙ্গা শরণার্থী

snapshotআপডেট: ০০:৪৩, নভেম্বর ১৮, ২০১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে দেশটির সামরিক বাহিনীর অভিযানের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে প্রায় ২০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীর আটকে পড়ার বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে আরও একটি মানবিক বিপর্যয় বিশ্বের জনগণকে অসহায় দর্শক হিসেবে প্রত্যক্ষ করতে হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সুরক্ষার গুরুত্ব অসামান্য। আমরা সব সময় আশা করি, সেখানকার গণতন্ত্রের কন্যা অং সান সু চির নেতৃত্বে মিয়ানমারের গণতন্ত্রায়ণ একটি অনুসরণীয় সাফল্যের নজির সৃষ্টি করবে।দেশটির অন্যতম জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি দুঃখজনক। তদুপরি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মিয়ানমার সরকার কর্তৃক জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠনের খবরে আমরা আশাবাদী। আর সাত সদস্যের এই কমিশনের কার্যক্রম চলমান থাকার মধ্যেই রাখাইন প্রদেশে গত মাসে সীমান্তের পুলিশ ফাঁড়িতে কথিত রোহিঙ্গা জঙ্গিদের ভয়ংকর হামলার অভিযোগে তাদের ওপর নির্বিচার হামলা জোরদার করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির রিপোর্ট অনুযায়ী ওই ঘটনার পর থেকে কথিত হামলাকারীদের খুঁজে বের করার অভিযানে ১৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাড়িছাড়া হয়েছে এবং অন্তত ৬৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

বিশ্ববিবেক এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রতিকার দেওয়া দূরে থাক, যথাযথভাবে সোচ্চার পর্যন্ত হচ্ছে না। মিয়ানমারের সরকার অবশ্য সৈন্যদের দ্বারা নিরস্ত্র রোহিঙ্গা বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করেছে। তবে শুক্রবারেই খবর এসেছে যে, একজন বিশিষ্ট মার্কিন আলোকচিত্রী, যিনি রাষ্ট্রহীন নাগরিকদের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে ইয়াঙ্গুনে একটি প্রদর্শনী আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, গতকাল তাঁকে বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়।
কফি আনান এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যদিও ইতিমধ্যে সহিংসতার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিন্তু আমরা মনে করি, আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর উচিত আরও বেশি সরব এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। বাংলাদেশ সরকারকেও জোরালো কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
একটি জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর পদ্ধতিগত রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অপেক্ষাকৃত নির্লিপ্ততা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে উদাসীন থাকতে পারে না। এটাও কম উদ্বেগজনক নয় যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দাবি করছে যে, উগ্রপন্থী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রবাসী ইসলামপন্থীদের যোগসাজশ রয়েছে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *