August 20, 2018

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

জনস্বার্থে কোরবানীর পশুর হাটের ইজারা কমিয়ে সংখ্যা বৃদ্ধি আবশ্যক

Cowসরদার শাহাদাৎ হোসেন: মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব হলো পবিত্র ঈদুল-আযহা। এই ঈদে সামর্থ্যবান মুসলমানগণ মহান আল্লাহ পাকের সন্তষ্টি লাভের আশায় সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানী দিয়ে থাকেন। রাজধানীর ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হাতের নাগালে এসকল পশু পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারী উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পশুর হাট বসে থাকে। রাজধানীর একমাত্র স্থায়ী পশুরহাট হলো গাবতলী পশুর হাট। বিগত বছরগুলোতে দুই সিটি কর্পোরেশনে অনুমতিতে কমপেক্ষ্য ২০টি পশুর হাট বসতো। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (দক্ষিণ) এর অধিনে কোরবানীর পশুর হাটগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ছিল আরমানি টোলা খেলার মাঠ, (নয়াবাজার), গোপীবাগ ব্রাদার্স ইউনিয়ন সংলগ্ন বালুর মাঠ, মেরাদিয়াবাজার, ঝিগতালা হাজারীবাগ মাঠ, উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘের মাঠ, লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ, সাদেক হোসেন খোকা মাঠ (ধোলাইখাল, নারিন্দা), গোলাপবাগ মাঠের পাশে সিটি কর্পোরেশন আদর্শ স্কুল মাঠ ও আশপাশের খালী জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা, ধুপখোলা ইস্ট এ্যান্ড ক্লাব মাঠ।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (উত্তর) এর মধ্যে হাটগুলো হলো: গাবতলী গবাদি পশুর হাট, এয়ারপোর্ট রোডের খিলক্ষেত নবরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, উত্তরা ১১ নম্বও সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ সংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তরার আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, তালতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন খালি জায়গা,    আগার গাঁও বস্তির খালি জায়গা, কাকলী মোড়ে বনানী রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন খালি জায়গা, তেজগাঁও ঢাকা পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের খেলার মাঠ, বারিধারা জে-ব্লকের (সাবেক নুরের চালা) রাস্তার পাশের খালি জায়গা, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের ইস্টার্ণ হাউজিংয়ের খালি জায়গা ও সড়কে দুই পাশ।
এসকল হাট ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন স্থানে অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসায়ীগণ কুরবানীর পশু নিয়ে এলাকায় কিছু প্রভাবশালীদেও সহায়তায় ছোট ছোট পশু হাট বসায়। এ সকল হাটগুলো ছোট হলেও ক্রেতা মন্দ নয়, কেননা এ সকল স্থান থেকেও পশু ক্রয় করলে হাসিল দিতে হয় না। এলাকার মধ্যে হওয়ায় বাসায় নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা কম। এ হাটে গরু ছাড়াও ছাগল, মহিষ, ভেড়া পাওয়া যায়। রাজধানীর পশু হাটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হাট হলো গাবতলী পশুর হাট। এ হাটে উট এবং ভূটান থেকে আগত ঘুট্টু গাই পাওয়া যায়। অনুমোদিত হাটগুলোতে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা, জালটাকা সনাক্তকরণ যন্ত্র প্রত্যেক হাটে রয়েছে পুলিশের অস্থায়ী সাব কন্ট্রোল রুম, যেখানে রয়েছে ইউনিফর্ম পরিহিত আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, অধিক পরিমান নগদ অর্থ বহনের  জন্য রয়েছে পুলিশ স্কুট, পশু আনা- নেওয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত, হাটের আশেপাশের রাস্তার যানজট নিরসনের জন্য রয়েছে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ সহ নানা বিধ পদক্ষেপ  নেওয়া হয়।
এবার ভারত থেকে পশু আনা প্রায়ই অসম্ভব। দেশে  যে পরিমাণ গরু মওজুদ আছে  তা সন্তসজনক; সিটি কর্পোরেশনের এড়িয়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সার্বিক সুবিধা বিবেচনা করে এবার কুরবানীর পশুর হাটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে হাট সংখ্যার বৃদ্দি করে দরপত্র কমালে জনগণ একটু বাড়তি সুবিধা পাবে। হাসিল আদায় ক্রেতাবান হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। স্থায়ী পশুর হাট গাবতলীতে ক্রেতাগণ কুরবানীর আগে কতিপয় চাঁদাবাজের হাতে চরমভাবে নাজেহাল হয়েছে। যা নিয়ে কয়েকবার গোস্তব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন করেছে। কুরবানীর হাটগুলোতে এমন অবস্থা না হয় সেদিকে সরকারকে কড়া নজর রাখতে হবে। ঢাকা শহরে অস্থায়ী অনুমোদন ছাড়া চিহ্নিত কোরবানী পশুর হাট জনস্বার্থে বৃদ্ধি করা হলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। এ বিষয়ে এখনই চিন্তা ভাবনা করা উ”িত। কোরবানীর হাট বৃদ্ধি করে ইজারা/দরপত্র কমিয়ে জনস্বার্থে কোরবানীর পশুর হাটের ইজারা কমিয়ে সংখ্যা বৃদ্ধি আবশ্যক।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *