December 16, 2018

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় বৈঠক করেছিল তামিম: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

pic_136842গুলশান হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ তামিম আহমেদ চৌধুরী কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্থানায় বৈঠক করেছিল বলে বাংলাদেশ পুলিশের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। তামিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে জঙ্গিদের উজ্জীবিত করা এবং তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনআইএ-র দাবি, কল্যাণপুর অভিযানে বেঁচে যাওয়া আহত জঙ্গি তাদের কাছে তামিমের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন।

ভারতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস ট্রাস্ট ইন্ডিয়া পিটিআই-এর বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিটিআইকে জানিয়েছেন, কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্থানায় পুলিশি অভিযানের চারদিন আগে পুলিশ প্রথম সূত্র পায়, আর এ থেকে তামিম চৌধুরীকে গুলশান হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই তামিম চৌধুরীকে গুলশান হামলার সঙ্গে জড়িত বলে মনে করছিল।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তামিম চৌধুরীকে পরপর দুটি জঙ্গি হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে শনাক্ত করি। তাকে খুঁজে বের করার জন্য আমরা একটি তল্লাশি অভিযান শুরু করি। আমরা মনে করি, সে (তামিম চৌধুরী) তিন বছর আগে কানাডা থেকে ফিরে এখন বাংলাদেশেই আছে।’

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, পুলিশ প্রতিবেদন অনুযায়ী, তামিম চৌধুরীর কল্যাণপুরে যাতায়াত ছিল। সেখানে জঙ্গিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং জঙ্গি তৎপরতা চালাতে উদবুদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কল্যাণপুরের অভিযানে আহত অবস্থায় আটক জঙ্গি রকিবুল হাসানও পুলিশকে এই কথা নিশ্চিত করেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই  জানিয়েছে।

ইসলামিক স্টেট (আইএস) তামিম চৌধুরীকেই বাংলাদেশে আইএস-এর প্রধান বলে দাবি করেছে। আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী তামিম চৌধুরীকেই বাংলাদেশের কথিত আইএস প্রধান আবু ইব্রাহিম আল-হানিফ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৩ সালে তিনি কানাডা ছাড়েন। অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক তার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। চলতি বছরে আইএস-এর কথিত প্রপাগান্ডা ম্যাগাজিন দাবিক-এ তার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ পুলিশের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তামিম জেএমবি-র একাংশের প্রধান। অপর অংশের নেতৃত্বে আছে সাইদুর রহমান।

এদিকে, তামিমসহ জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর অন্তত পাঁচ সদস্য ভারতে প্রবেশ করেছে বলে সন্দেহ করছে বাংলাদেশ। এরইমধ্যে সেই পাঁচ সন্দেহভাজনের নামের তালিকা ভারত সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সে দেশে গ্রেফতার সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্য নুরুল হক ম-ল ওরফে নাইমকে ফেরত দেয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এক বৈঠকে সন্দেহভাজন পাঁচ জেএমবি সদস্যের ব্যাপারে আলোচনা করেন। সেই বৈঠকেই নাইমকে দেশে ফেরত পাঠানোর এ অনুরোধ জানান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলশান হামলার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়ার মতো ভারতীয় রাজ্যগুলোকে সতর্কতায় রাখা হয়েছে। সে সতর্কতার মধ্যেই এবার বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ সন্দেহভাজন জঙ্গির তালিকা ভারতকে দেওয়া হয়। কয়েকদিন আগে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) যে ৬৮ জন নিখোঁজের তালিকা প্রকাশ করেছে তার মধ্যে ওই পাঁচজনের নাম রয়েছে। বাংলাদেশের দাবি অনুযায়ী, তারা সবাই জেএমবি-র কর্মী। তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ।

পাঁচ সন্দেহভাজনের মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক তামিম চৌধুরীও রয়েছেন। তাকে গুলশান হামলার হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর স্থানীয় জঙ্গিগোষ্ঠী এবং আইএস-এর সঙ্গে তার সংযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *