August 14, 2018

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

ফাহিমের জন্য এতো মায়াকান্না কেন?

2016_06_29_18_43_36_5seUhzcny52ejxwmmhbLnRqskCmGfC_originalঢাকা: মাদারীপুরে শিক্ষককে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আটক ফাইজুল্লাহ ফাহিম পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনায় খালেদা জিয়ার নিন্দা জানানোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে তার বক্তব্যকে ‘মায়াকান্না’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, ‘মাদারীপুরে শিক্ষককে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার জঙ্গি ফাইজুল্লাহ ফাহিম পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর তার জন্য খালেদা জিয়া কেন এতো মায়াকান্না করছেন?’

বুধবার (২৯ জুন) দশম জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যে লোকটা (ফাহিম) একজন কলেজ শিক্ষককে মারতে গিয়ে জনগণের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে, তার জন্য খালেদা জিয়ার এত কথা কেন- এটা আমার প্রশ্ন?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক আগেই সন্দেহ করেছিলাম- হঠাৎ গুপ্তহত্যা কেন? মাদারীপুরের জনগণ সাহসের সঙ্গে কলেজশিক্ষকের ওপর আঘাতকারীকে ধরে ফেলল। পরে তাকে নিয়ে আরও লোকজন ধরতে গেলে সে ক্রসফায়ারে বা যেকোনো কারণে হোক মৃত্যুবরণ করেছে। তার (ফাহিম) জন্য খালেদা জিয়ার হাঁড়ির ভাত সেদ্ধ হচ্ছে কি না, তা একটা ভাতে টিপ দিলেই বোঝা যাচ্ছে।’

‘এ থেকেই বোঝা যায় গুপ্তহত্যার সঙ্গে তাদের একটা সম্পর্ক রয়েছে। তাছাড়া জনগণের নিরাপত্তা দেয়া আমাদের দায়িত্ব এবং আমরা এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন’- বলেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন মাদারীপুরে সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজের গণিতের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলার পর জনতা ফাহিমকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দেয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। রিমান্ডে নেয়ার পরদিন সকালে মাদারীপুরের একটি চরে কথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয় ফাহিম।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বাকি সহযোগীদের ধরতে ফাহিমকে সঙ্গে নিয়েই অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মিয়ার চর এলাকায় সহেযাগীদের সঙ্গে ‍পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। এসময় তাদের গুলিতেই নিহত হয় গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিম।

ফাহিমের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ। তবে দীর্ঘদিন ধরেই বাবা-মার সঙ্গে বসবাস করতেন ঢাকায়। পড়তেন একটি বেসরকারি কলেজে। বাবা গোলাম ফারুক একজন ব্যবসায়ী আর মা সাধারণ একজন গৃহিনী।

ঢাকার উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসির মেধাবী ছাত্র ছিলেন ফাহিম। এসএসসিতে পেয়েছিলেন জিপিএ-৫। কলেজে হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বলে দাবি পুলিশের।

তবে বাবা গোলাম ফারুক বা পরিবারের অন্য কেউ-ই জানতে পারেননি ছেলের জঙ্গি সংশ্লিষ্টার কথা। ধর্মীয় বই-পুস্তক নিয়ে ছেলে ঘাঁটাঘাঁটি করতো এটুকু জানতেন তারা।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *