December 15, 2018

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

দায়ী ১০ ডলারের সেকেন্ডহ্যান্ড রাউটার

মাত্র ১০ ডলার (৭৮০ টাকা) দামের রাউটারের কারণে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হারিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দুর্বল হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার সিস্টেমের কারণেই হ্যাকাররা ফেডারেল ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি করতে সক্ষম হয়েছে। হ্যাকার চক্র মোট ১০০ কোটি ডলার (এক বিলিয়ন) হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল। যার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে ব্যাংকের বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার অদক্ষতা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স সিআইডিকে উদ্ধৃত করে বলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক নেটওয়ার্কিংয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি দীর্ঘদিন ধরে একটি পুরনো (সেকেন্ডহ্যান্ড) রাউটার ব্যবহার করছিল। নতুনটির বাজার মূল্য মাত্র ১০ ডলার। এছাড়া ব্যাংকের রিজার্ভের নিরাপত্তায় আলাদা কোনো পার্টিশনও ব্যবহার করা হয়নি কখনও। এসব কারণে খুব সহজেই হ্যাকাররা ব্যাংকের অর্থ লুট করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই দায় কোনোভাবেই সুইফট কর্তৃপক্ষও এড়াতে পারে না।
ইতিমধ্যে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত কমপক্ষে ২০ বিদেশী নাগরিককে শনাক্ত করেছে। এর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট এবং অন্যান্য শাখারও বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার দায়িত্ব অবহেলা ছিল। সিআইডি এখনও তাদের সবাইকে শনাক্ত করতে পারেনি। তদন্ত সংস্থা বলছে, যদি বাংলাদেশ ব্যাংকে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার থাকত তবে তা হ্যাকারদের কাজে বাধা দিতে পারত। একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারে যে পরিমাণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত তা বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষেত্রে ছিল না। আর এটাই ব্যাংক হ্যাকিংয়ের অন্যতম কারণ।
ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার লুট করার পরিকল্পনা করেছিল হ্যাকাররা। কিন্তু তাদের ভুলের কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। একটি মাত্র বানান ভুলের কারণে হ্যাকাররা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তারা ১ বিলিয়ন ডলারের পরিবর্তে ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি করতে সমর্থ হয়েছিল। কিন্তু এই অর্থও তারা লুট করতে পারত না যদি ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি না থাকত।
সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইডি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো উন্নত ফায়ারওয়্যাল (নিরাপত্তাব্যূহ) সিস্টেম ছিল না। অথচ এই ফায়ারওয়াল সিস্টেম ব্যাংক হ্যাকিংকে আরও কঠিন করতে পারত। হ্যাকিং ঠেকানো সম্ভব হতো। তিনি সেকেন্ডহ্যান্ড রাউটার ব্যবহারকে দায়ী করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্কিংয়ের ক্ষেত্রে মৌলিক কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ওই সস্তা রাউটারটির জন্য হ্যাকাররা সহজেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে অর্থ লুট করে। আর এখনও ওই রাউটারের জন্যই তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কেননা এটা খুব বেশি তথ্য দিতে পারছে না যার ফলে হ্যাকারদের কৌশল সম্পর্কে বেশি কিছু জানা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যাংকিং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দাবি কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে নিজেদের ব্যাংকিং সিস্টেমে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও অর্থ ও সময় ব্যয় করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হয়েও বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পারেনি। সাইবার ফার্ম অপটিভের পরামর্শক জেফ উইচম্যান রয়াটার্সকে বলেন, আমরা এমন একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কথা বলছি যার আওতায় কয়েক বিলিয়ন অর্থ মজুদ রয়েছে। অথচ তারা নিজেদের মৌলিক সচেতনতার বিষয়ে মোটেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়নি। উল্লেখ্য, ৪ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার গেছে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনে। মোট ৫টি সুইফট বার্তার মাধ্যমে এসব অর্থ চুরি হয়েছে উল্লেখ করে ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের ব্যাংক অফিস অব দ্য ডিলিং রুমের যুগ্ম পরিচালক যোবায়ের বিন হুদা। মানি লন্ডারিং আইনে করা মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *