November 18, 2018

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

বাকৃবিতে রাতভর অভিযান পুলিশের ফাঁক গলে পালাল আসামি

 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের মেধাবী ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা সাদ ইবনে মোমতাজ হত্যা মামলার আসামি ধরতে ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার রাতভর অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু এ অভিযানের ফাঁক গলে পালিয়ে যায় আসামি ফয়সাল ইসলাম জয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত কয়েক প্লাটুন পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পরে রাত ১২টার দিকে সাদ হত্যার চার্জশিটপ্রাপ্ত আসামি ফয়সাল ইসলাম জয় ও সুমন পারভেজকে ধরতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের আবাসিক শহীদ শামসুল হক হলে আসে পুলিশ। সেসময় হলেই অবস্থান করছিল আসামি জয়। এমনকি হলের তিন তলা থেকে পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিকদের উদ্দেশে গালিগালাজও করেন তিনি।

এদিকে ক্যাম্পাসে পুলিশের অবস্থান টের পেয়ে জয়ের অনুসারীরা হলের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে ছাত্রদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করেন। এসময় পুলিশ হলে প্রবেশের চেষ্টা করলে জয়ের অনুসারীরা প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভের পর এক পর্যায়ে হলে প্রবেশ করে পুলিশ।

গভীর রাত সাড়ে তিনটা পর্যন্ত হলে তল্লাশি চালিয়েও হলে কোনো আসামি পায়নি পুলিশ।

এদিকে রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দলে দলে শহীদ শামসুল হক হলের সামনে এসে জমায়েত হয়। সাদ হত্যার আসামিদের ধরতে তারা জয় বাংলার স্লোগান দেয়।

তবে একটি সূত্র জানায়, গত ৩১ মার্চ নিজেকে ছাত্রলীগের বাকৃবি শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও নিজ ফেসবুকে আপলোড করে জয়। যা ছাত্রলীদের কেন্দ্রীর নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এমনকি বাকৃবি ছাত্রলীগে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের উত্তেজিত করে তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় দুই বছর পর গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে জয়কে ধরতে হলে আসে পুলিশ। অথচ গত দুই বছর তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতি চালিয়ে গেলেও কেউ কোনো প্রতিবাদ করেনি।

এ বিষয়ে ওই হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ফকির আজমল হুদা বলেন, পুলিশ সাদ হত্যার আসামি ধরতে গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে আসলে আমি তাদের হলে প্রবেশের অনুমতি দেই। তবে জয় আমার হলের আবাসিক ছাত্র না।

একই বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম জাকির হোসেন বলেন, পুলিশ প্রশাসন সাদ হত্যা মামলার আসামি ধরতে আসলে আমরা তাদের সহযোগিতা করি। ক্যাম্পাসে কেউ যেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে সে বিষয়ে আমরা তৎপর।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতয়ালি মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, সাদ হত্যার চার্জশিটপ্রাপ্ত আসামি জয় ও সুমনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাদের ধরতে আমরা হলে তল্লাশি চালাই। তবে হলে ঢুকে আমরা একজনকেও খুঁজে পাইনি।

উল্লেখ্য,২০১৪ সালের ১ এপ্রিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর নির্মম অত্যাচারে নিহত হয়েছিলেন বাকৃবির মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের মেধাবী ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা সায়াদ ইবনে মোমতাজ।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *