July 17, 2018

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জে বিএনপি

BNP

 

 

 

 

চ্যালেঞ্জে পড়েছে বিএনপি। দলটি তাদের ষষ্ঠ কাউন্সিলে ‘নতুন ভিশন’ ঘোষণা করেছে। তবে অনেকের মতে, এ ভিশন বাস্তবায়ন করতে চাইলে সবার আগে দরকার হবে নিরপেক্ষ একটি জাতীয় নির্বাচন। সেটি আদায়ের ক্ষেত্রে দলটি তার পুরনো রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে কিনা, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়। দলের বাইরে ও ভিতরের দ্বিমুখী প্রতিরোধ— বিপজ্জনক এক চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছে দলটিকে। প্রতিপক্ষ ক্ষমতাসীন দল ছাড়াও দলের ভিতরের কিছু সুবিধাবাদী ও আঁতাতকারী নেতা

 

ই এখন পরোক্ষভাবে বিএনপির রাজনীতির বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। নতুন নির্বাচন আদায় ও সরকারে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিএন

 

পির এসব নেতার বিতর্কিত ভূমিকাকে ‘বেইমানি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন খোদ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার মধ্যেই বর্তমান সরকারের মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব নিয়ে বসে আছেন বিশাল সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা ঢাকার নব্য ধনকুবের দুই বিএনপি নেতা। এদের একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য। অন্যজন প্রভাবশালী যুগ্ম-মহাসচিব। বিগত আন্দোলনে বিতর্কিত ভূমিকা আর সরকারের সঙ্গে আঁতাতের কারণে ইতিমধ্যেই তারা দলে কোণঠাসা।

জানা গেছে, শনিবার হয়ে যাওয়া ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে সারা দেশ থেকে আগত কাউন্সিলররা চেয়ারপারসনের কাছে পরিষ্কার জানতে চেয়েছেন ৫ জানুয়ারির আগে-পরের আন্দোলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের কে কী ভূমিকা পালন  করেছেন? কাদের বেইমানির কারণে সারা দেশে সৃষ্ট উত্তাল আন্দোলন হঠাৎ করে নির্বাচনের পরদিনই বন্ধ করে দিয়ে পরোক্ষভাবে ৫ জানুয়ারির ‘প্রহসনের’ নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছিল বিএনপি। জবাবে খালেদা জিয়া অকপটে স্বীকার করে বলেছেন, ‘বিএনপিতে বেইমান, মীরজাফর ছিল এবং এখনো আছে

 

। সে জন্যে জেলা-উপ

 

জেলায় ব্যাপকভাবে আন্দোলন হলেও বিএনপির আন্দোলন সেদিন সফল হয়নি। আন্দোলন যখন তুঙ্গে ওঠে ঢাকার এসব মোনাফিক নেতাই তখন তা ফলপ্রসূ হতে দেননি। এদের দল থেকে বের করে দিতে হবে। এ কথা স্বীকার করে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেছেন, তৃণমূলে আন্দোলন হলেও ঢাকার নেতাদের ব্যর্থতাই আন্দোলনকে তার গন্তব্যে নিয়ে যেতে দেয়নি। তার যথাযথ কারণ চিহ্নিত করে এখন পদক্ষেপ নিতে হবে। দলের একজন প্রভাবশালী ভাইস চেয়ারম্যান এ প্রসঙ্গে গতকাল বলেছেন, ‘ঘরের শত্রুদের দ্বারা আজ আমরা দলবন্দী’র মতো হয়ে আছি। বিএনপির ভিতরে ঘাপটি মারা কিছু ইঁদুরের কারণেই আজ আমরা খাদে পড়ে আছি। শুধু দলেই নয়, চেয়ারপারসনের চারপাশেও এরা আছেন। যারা গোটা দলকে আজ বিপজ্জনক অবস্থার মুখে ঠেলে দিয়েছেন। ফলে চেয়ারপারসন ‘ভিশন-২০৩০’ নামক যে অভূতপূর্ব পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন তাও আজ চ্যালেঞ্জের মুখে। দলের গুরুত্বপূর্ণ যে কোনো সিদ্ধান্তে দীর্ঘসূত্রতা ও বিঘ্ন সৃষ্টিই এ ইঁদুরের দলের কাজ। চেয়ারপারসনকে বার বার অবহিত করার পরও তারা এখনো সপদে বহাল তবিয়তেই আছেন। উপরন্তু সরকারের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন তারা। এদের কারণে ‘ভিশন ২০৩০’-এর ‘প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনয়ন’ এবং ‘দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ’ গঠনের মতো সুন্দর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন আকাশ-কুসুম কল্পনায় পরিণত হতে

 

যাচ্ছে। ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলররা দলের স্থায়ী ও নির্বাহী কমিটি গঠনে চেয়ারপারসনকে একক দায়িত্ব দেওয়ার আগে পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, ‘ম্যাডাম’ প্রয়োজনে তাড়াহুড়া না করে আরও সময় নিয়ে ধীরে-সুস্থে কমিটি দিন। কিন্তু আম

 

রা যোগ্য নেতৃত্ব চাই। কর্মসূচি ঘোষণা করে আত্মগোপনে চলে যাবেন, আর মাঠে আমাদের (তৃণমূল নেতা-কর্মীদের) বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে এসি রুমে বসে অজ্ঞাত স্থান থেকে বিবৃতির মাধ্যমে নির্দেশনা দেবেন— এমন নেতৃত্ব আমরা আর চাই না। মাঠে নেমে নেতৃত্ব দিতে পারবেন যারা, সে ধরনের সাহসী ব্যক্তিদেরই বিএনপির নতুন কমিটির নেতৃত্বে দেখতে চাই। এ ছাড়া অবসন্ন যুবদল, অকেজো শ্রমিক দল আর বিশৃঙ্খল ছাত্রদলে আরও গতি আনারও দাবি করেন তৃণমূল নেতারা। এসব দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে খালেদা জিয়া নিজেই কৃষক দলের কথা যোগ করে বলেন, সংগঠনটিতে ১৮ বছর ধরে কোনো কমিটি নে

 

ই। একেক নেতা দলের ভিতরে তিন-চারটি করে পদ নিয়ে বসে আছেন। গঠনতন্ত্র সংশোধনীর মাধ্যমে এবার তা বন্ধ করা হচ্ছে। বিএনপির সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তাদের কাছে সবচেয়ে অগ্রাধিকার হলো একটি নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন আদায়। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি বিএনপি ক্ষমতায় যাবে এবং তার মাধ্যমেই সব ‘ভিশন’ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। ‘ভিশন ২০৩০’-কে বিএনপির অঙ্গীকার হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এ নিয়ে তারা কাজ করছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভিশন ২০৩০’ এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন শেষে এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কেও জানানো হবে। তবে এর মধ্যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনাটাকেই মুখ্য বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনাটা জরুরি। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ থাকলে এটি সহজ হবে। নিম্নকক্ষে দলীয় লোকজন থাকেন। আর উচ্চকক্ষ গঠিত হয় সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে। সে ব্যবস্থায় দুই কক্ষ একমত হওয়া ছাড়া সংসদে কোনো আইন

হয় না। একইভাবে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কোনো সুপারিশ কিংবা হস্তক্ষেপ থাকবে না। ভারত, পাকিস্তানসহ আমাদের এ উপমহাদেশের অনেক গণতান্ত্রিক দেশেই এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকার মতো দেশে তো আছেই। তবে সেই ‘ভিশন-২০৩০’ বাস্তবায়নের জন্য বিএনপিকে সরকার গঠন করতে হবে। তা করতে হলে দরকার একটি নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর তা আদায় করাটাই এখন বিএনপির জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। এ জন্য যোগ্য লোকদের যথাযথ স্থানে নিয়োগ দিয়ে সাংগঠনিক ভিত আরও সুসংহত করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক দাবি আদায়ের আন্দোলনে বিএনপিকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।

জাতীয় সম্মেলন হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো কমিটি ঘোষণা না করায় বিষয়টি নিয়ে দলের ভিতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে এ সম্পর্কে দলের স্থায়ী কমিটির অন্য একজন প্রবীণ সদস্য জানান, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব ঘোষণাসহ নতুন স্থায়ী কমিটির ১৯ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করা হবে। তার

মধ্যে বেশির ভাগ সদস্যই স্থায়ী কমিটিতে থাকছেন। তিনজন সদস্য মারা গেছেন, ওই তিনটি পদসহ গুরুতর অসুস্থতা ও শারীরিক অক্ষমতার কারণে স্থায়ী কমিটির আরও দুটি পদে নতুন মুখ আসতে পারে। তবে দলটির পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণায় এক মাসেরও বেশি সময় নিতে পারেন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *