October 19, 2018

লজ্জিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে চাই মহান রাষ্ট্র নায়ক

photo৫ জানুয়ারী ২০১৪ প্রহসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২৮ এপ্রিলের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, ৩০ ডিসেম্বরের পৌর নির্বাচন দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত না ঘরে বাইরে লজ্জিত করেছে। তা সচেতন মানুষের কাছে অজানা নয়। কার্যত একদলীয় সংসদের পর এক দলীয় স্থানীয় সরকার গঠিত হয়ে মূলত রাজতন্ত্রের গণতন্ত্র দেশে বিরাজ করছে। গত সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের অবস্থা এমন ছিল যে কুকুর ঘুমাতে দেখা গেছে। সিটি নির্বাচনে ভোর রাতেই কেন্দ্র দখল হয়ে গেছে। পৌর নির্বাচনে কোন কেন্দ্রে ভোট পড়েছে শতভাগ। আগের রাতেই নাকি ভোট দেয়া হয়ে গিয়েছিল শতভাগ। ফলে অপেক্ষা করে কি লাভ, সকালে কেন্দ্রে আসা ভোটারদের প্রিসাইডিং অফিসাররা জানিয়ে দেন যে, এসব কেন্দ্রে কোন ব্যালট পেপার নেই। এসব কেন্দ্রে ভোট না দিতে পেরেই ফিরে যান ভোটাররা। যশোর শহরের ১নং ওয়ার্ডের ঢাকা রোড প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার ছিল ৩ হাজার ১৪৫ জন। এ কেন্দ্রে আগে থেকেই ছিল মারা ব্যালট পাওয়া যায় ৩ হাজার ৪০০। এ ঘটনা ফাঁস হলে কেন্দ্রের বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষমেশ পুলিশ পাহাড়ায় ভোট গণনা শেষ করে বাড়তি ভোট বাতিল করা হয়।

১৯৭০ সালের সংসদ নির্বাচন পাকিস্তানের সামরিক জান্তার অধীনে হয়েছিল, এসময় তারা ইচ্ছা করলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আজকের বাংলাদেশের সকল আসনেই এ কৌশলে বিজয়ী করতে পারতো। কিন্তু ঐ নির্বাচনকে আজ পর্যন্ত কেউ বিতর্কিত করতে পারে নি। কারণ তৎকালীন নির্বাচন কমিশন ছিল স্বাধীন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭৫ ভাগ ভোট ও ৯৮ ভাগ আসন পায়। ঐ পাকিস্তানী সামরিক জান্তার অধীনে নির্বাচনের চেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন আজ কত পরাধীন। নির্বাচনী কৌশল কত খারাপ, তাহলে এ লজ্জার গণতান্ত্রিক শাসন শোষনের নির্বাচনে জাতির হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব ও দায়-দায়িত্ব কে নিবে? এ জন্য নির্বাচন কমিশনের বিচারের দাবি উঠেছে। আমরা প্রহসনের নির্বাচনের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ ক্ষয়ক্ষতির জন্য বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিচার চাই। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে সরকার বিরোধী কোন কোন প্রার্থীর ভোট বাক্স ঢাকায় এনে গুনা হয়েছিল এবং সরকার দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করা হয়েছিল। জাতিকে এ জন্য পরবর্তীতে অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। সেদিও গণতন্ত্রের বিজয় উৎসব পালিত হয়েছিল। এক পর্যায় জাতি গণতন্ত্র থেকে ১৯৭৫ এ একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা এবং এক নায়কের শাসনতন্ত্র দেখেছিল।
২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী প্রহসনের নির্বাচনকে যারা গণতান্ত্রিক বিজয় দিবসের উল্লাস বলে জাতিকে মাতোয়ারা করতে চায় তারা মূলত স্বাধীন বাংলাদেশে একদলীয় রাজতন্ত্রে বিজয় গৌরবকে পালন করে নিজেদের ধন্য মনে করেন। দেশের বর্তমান লজ্জিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আজ প্রয়োজন এক মহান রাষ্ট্র নায়কের। জাতির লজ্জিত গণতন্ত্র ফিরে পেতে অহিংস আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে জন্ম হউক ঐতিহাসিক সেই গণতান্ত্রিক মহানায়কের। তাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে চাই এক মহান রাষ্ট্র নায়ক।

সরদার শাহাদাৎ হোসেন
সাংবাদিক
সদস্য, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *