December 13, 2018

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ যথার্থ ছিল

 photoসরদার শাহাদাৎ হোসেন ॥
সম্প্রতি অখন্ড ভারত করার ঘোষণা দিয়েছেন বিজেপি’র সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব। তা পাকিস্তানের জন্য বিপদজনক না হওে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এক বিরাট হুমকি। পাকিস্তান তাদের স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য কী করবে সেটি তাদের ব্যাপার। একদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্ব-উদ্যোগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর জন্ম দিবসের অনুষ্ঠানে গিয়ে হাজির হন। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব অখন্ড ভারত করার ঘোষণা দেয়। চানক্য ভারতীয় কুটনীতি বোঝা দুষ্কর। তবে প্রশ্ন জাগে এতদিন পরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভø্যাদিমির পুতিন নরেন্দ্র মোদীকে মীর জাফরের বংশের তলোয়ার শুভেচ্ছা স্বরূপ উপহার দেওয়ার পর পরই রাশিয়া থেকে আফগানিস্তান, পাকিস্তান হয়ে নরেন্দ্র মোদী দিল্লী আসেন। আর দিল্লী আসতে না আসতে রাম মাধবের হঠাৎ এমন ঘোষণা কেন? এটা পাকিস্তানের মাথা ব্যাথা না হলেও বাংলাদেশের জন্য খুবই অশুভ সংকেত। আমরা আর জগৎশেঠ-মীর জাফরদের ষড়যন্ত্র স্বাধীন বাংলার মাটিতে দেখতে চাই না। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে যে ভুখন্ড পেয়েছে তা হাজার বছরের অসংখ্য শহীদদের রক্ত ও চরম আত্মত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছে। পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণ ১৯৭১ সালে স্বাধীন করেছে প্রতিবেশী ভারতের সাথে মিশে যাওয়ার জন্য নয়। ১৯৪৭ সালের আদর্শিক কারণে অখন্ড ভারত বিভক্ত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সাহায্য সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে ঘোষিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য। এই সহযোগিতার কারণে ভারতের কোন রাজনৈতিক নেতা যদি চান বাংলাদেশ ভারতের সাথে মিশে যেতে হবে তবে ভুল করা হবে। রাম মাধব গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা যুদ্ধ বা অধিগ্রহণের মাধ্যমে এ দেশ দুটি দখল না করে জনপ্রিয় মতামতের মাধ্যমে তা করবেন। এটা মূলত সিকিম এবং কাশ্মীর দখলের কুটকৌশলকে বাংলাদেশে ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা যেতে পারে। অন্যদিকে ভাগ করো, শাসন করো নীতি আধিপত্যবাদী ভারত বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্য, সংহতির চরম বিপন্ন অবস্থায় নিয়ে গেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন কর্তৃক নরেন্দ্র মোদীকে দেয়া মীর জাফরের বংশের তলোয়ার দিয়ে বাংলাদেশকে ভারতভুক্ত করা যাবে না। এ জন্য চানক্যবাদী ভারত মীরজাফরের ক্ষমতার উচ্চাকাক্সক্ষার মোহে কিছু রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে ভারতভুক্ত করার নীল নকশা প্রণয়ন করছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে মূলত একনায়কতন্ত্রে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের সব শ্রেণী ও পেশার মানুষের মধ্যে দ্বিধা বিভক্তি এনে কেবল দল বিশেষের আদর্শে বিশ্বাসীকে স্বাধীনতা পন্থী হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে স্বাধীনতা বিরোধী, মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যে জাতীয় ঐক্য-সংহতি প্রয়োজন তার সাথে এসব বিষয় বিপরীত মুখী। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যাপক জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠার পরেও পাকিস্তান কারাগার থেকে এসে দেশ শাসনের দায়িত্ব নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একদিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রাজনৈতিক কারনে স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিলেন তাদের ক্ষমা করে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ যথার্থ ছিল। এখন নতুন করে বাংলাদেশকে অখন্ড ভারতের সাথে মিশিয়ে দেয়ার যে আকাক্সক্ষার কথা বিজেপি’র সাধারণ সম্পাদক উচ্চারণ করেছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় অখন্ডতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে সচেতন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে হবে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *