April 23, 2018

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

হযরত ইশা (আ:) স্মরণে (বন্ধু ও মিত্র নয় ভারত)

65

 

লাইলাহা ইল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ (সা:), লাইলাহা ইল্লাহু ইশা রুহুল্লাহ (আ:) ‘‘আমরা করিনা কোন পার্থক্য মহান আল্লাহর প্রেরিত নবী রাসূলের প্রতি’’- আল-কুরআন। এ দুই মহা মানব রাসূল ও নবীর শুভ জন্মদিনে কায়োমনো বাক্যে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে প্রার্থনা করি যে, সকল আহলে কিতাবের অনুসারীদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত-বরকত-রহমত বর্ষিত হোক, হানাহানি-রক্তক্ষয়ী বিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি ঐক্য সংহতি, শান্তি সমৃদ্ধির বয়ে আনুক। আজ থেকে ২০১৬ বছর পূর্বে যখন ইশা (আ:) কে ইহুদিরা সুগভীর চক্রান্ত করে নিষ্ঠুর নির্যাতনের মাধ্যমে মাত্র দুই পয়সার বিনিময়ে হত্যা করেছিল। সেদিন থেকে ইহুদিরা অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্ববাসীকে ভাগ কর শাসন কর নীতির মাধ্যমে তাদের স্বার্থ হাতিয়ে নিয়ে চলছে। যার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পৃথিবীর অনেক জাতি-গোষ্ঠী রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেলেও ইহুদীদের চক্রান্তে তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আজও অর্জিত হয়নি। এ প্রেক্ষিতে বলতে হয় ‘‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে, স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন’’। ভাগ কর শাসন কর ইহুদীদের এই নীতিতে ভারতীয় উপমহাদেশের ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শোষন শাসন নীতি বলবৎ ছিল। বিশ্বের অর্থনৈতিক শোষকেরা এই নীতি-নৈতিকতার সদূর পরিকল্পনার বিস্তার ঘটিয়ে বিশ্বের দেশে-দেশে লুন্ঠন করে চলছে। অর্থনৈতিক যে সমস্ত শোষকদের পরিকল্পনায় আফ্রো-এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপ মহাদেশের বিভিন্ন দেশগুলোর জাতি-গোষ্ঠী শ্রেণী পেশায় বিভাজন তৈরী করে আত্মঘাতী সংঘাত, রক্তক্ষয়ী সংগর্ষে তাদের নিজেদের স্বাধীন সার্বভৌম দেশগুলোতে রক্তের বন্যা বয়ে দিচ্ছে। উদাহরন স্বরূপ আমরা দেখতে পাচ্ছি ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া সহ বহু দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ এই লুটেরা লুটেই নেয়নি এক সময়ের স্বালম্বী পরিবারগুলো এখন বাস্তচ্যুত হয়ে লক্ষ লক্ষ নারী-শিশু-পুরুষ জীবন জীবিকার তাগিদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিতেছে এবং কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক শোষকদের ভাগ কর শাসন কর এই লন্ঠনের বেড়াজালে ক্ষমতাসীন সরকার কি আজ বন্দি হয়ে পড়েছে। তা না হলে এদেশে এত বিভাজন ও প্রকট বৈষম্য সৃষ্টির কারণ কী? জাতীয় ঐক্য সংঘতি আজ বিপন্ন হতে চলছে। এটা কোন দেশপ্রেমিক সরকারের কাম্য হতে পারে না। কোন দেশপ্রেমিক রাষ্ট্র নায়কের দ্বারা দেশের সামাজিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। এটা একমাত্র ক্ষমতার মোহে অন্ধ এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক শাসক শোষকদের খুঁদকূড়া খাওয়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষেই মানায়। দেশপ্রেমিক রাষ্ট্র নায়ক এ সমস্ত শোষকদের তল্পিবাহক হতে পারে না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এমন ক্ষমতার পাগল লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফি, ইরাকের সাদ্ধাম, সিরিয়ার আসাদ, আফগানিস্তানের বাদশাহ জহির শাহ সহ অনেকেই ছিল। বর্তমানেও বেশ কিছু দেশে দেশে এমন ক্ষমতা পাগল দেখা যাচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষি দেয় যে এমনই ক্ষমতার পাগল ছিল সিকিমের রাজা লেনদুপ দর্জি। ভারত যখন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম সিকিম রাষ্ট্রটি দখল করে নেয় এবং লেনদুপ দর্জি প্রসাদের উদিয়মান সিকিমের পতাকাটি নামিয়ে ভারতের পতাকাটি উত্তোলন করে তখনও লেনদুপ দর্জি বিশ্বাস করতে পারেনি তার প্রাণের চেয়ে প্রিয় বন্ধু হিন্দুস্তান তার দেশটি চিরদিনের জন্য ভারত ভুক্ত করে ফেলেছে। এই ইতিহাস থেকে ভারত উপমহাদেশের রাষ্ট্র নায়ক-রাজনীতিবীদদের শিক্ষা-দিক্ষা নিয়ে হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর মদিনা সনদ ও ইসা (আ:) এর সহনশীলতার আদর্শ নিয়ে সময় থাকতে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার সহ সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।
এমনি ছলনার বলয়ে ভারত কাশ্মীরকে তার অর্ন্তভুক্ত করে নেয়। হিন্দুস্তান আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য সহযোগিতা করেছে তার নিজের স্বার্থ সিদ্ধির লক্ষ্যে। এর বিনিময়ে ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর পরবর্তী যে লুন্ঠন করেছে তা ২৫ বছরের পাকিস্তানী শাসন শোষনের চেয়ে কোন অংশে কম কি? স্বাধীনতার পরবর্তী ৪৪ বছরে ভারত যে বিমাতা সুলভ আচরন করে বৈধ ও অবৈধ পথে বাংলাদেশ থেকে বানিজ্যিক সুবিধা নিয়েছে এর পরিমাপ নির্ণয় করা কঠিন। ‘‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন ভারতে প্রধান মন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দ্রাগান্ধি। যা বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় বহুবার ছাপা হয়েছে। ‘‘জাতির পিতার ঘাতক কর্ণেল ফারুক ফাঁসির পূর্বে মাননীয় উচ্চ আদালতে দাঁড়িয়ে বলেছেন, যে হত্যার পূর্বে আমরা ভারতের ইষ্টান কমান্ডের হুকুমের অপেক্ষায় ছিলাম।’’ ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দ্রিরা-ভুট্ট চুক্তিনুযায়ী ১৯৫ জন যুদ্ধ অপরাধী পাকিস্তানীদের পাকিস্তান ফিরিয়ে নিয়ে যায়। পাকিস্তান বলছে, ঐ চুক্তিনুযায়ী এই বিষয় আর অগ্রসর না হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় ছিল মূল বিষয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সৈনিকেরা বলছে, পাকিস্তান ঐ চুক্তি অনুযায়ী ১৯৫ জন পাকিস্তানীকে তার দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচার করার কথা। জানি না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেন জাতীয় ঐক্য সংহতি এবং উন্নয়ন অগ্রগতির কথা চিন্তা করে এই যুদ্ধ অপরাধীদের বিষয় অগ্রসর হননি। বর্তমানে যেভাবে এই যুদ্ধ অপরাধী ইস্যু নিয়ে জাতিকে বিভক্তির দিকে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে এর ভবিষ্যত কোথায় যেয়ে দাঁড়াবে ইতিহাসই তা নির্নয় করবে। ভারত ১৯৭১ এর যুদ্ধকে বলছে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা যখন মহান মুক্তিযুদ্ধ বিজয় দিবস উদযাপন করি ভারত তার ইষ্ট কমান্ডের বিজয় উৎসব পালন করে থাকে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্ষক্ষয়ী স্বশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ঐতিহাসিক সোরওয়ার্দী উদ্যানে পাকবাহিনীর আত্মসর্মপন অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধি নায়ক এম.এ.জি ওসমানীকে উপস্থিত হতে না দিয়ে পাকিস্তানের জেনারেল আব্দুল নিয়াজি ও ভারতের জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা কাছে আত্মসর্মপনের দলিলে স্বাক্ষর করে আমাদের মহা মুক্তির হাজার বছরের সংগ্রামের বিজয়কে ছিনিয়ে নেয়। ৭১ পরবর্তী ভারতীয় মিত্র বাহিনী স্বাধীন বাংলাদেশকে শাসন করতে চাইলে বিশ্বের চাপ ও দেশপ্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিক খান ভাষানী সুযোগ্য নেতৃত্বে এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শি রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, প্রতিভা ও সৃজনশীল নেতৃত্বের সুবাদে ভারত সেটা করতে পারেনি। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব অনুযায়ী ভারত বিভক্ত তৎকালীন মুসলিম নেতৃত্বে করতে পারেনি বলে ১৯৪৭ সালে পূর্ব বাংলাকে বাধ্য হয়ে পাকিস্তান ভুক্ত হতে হয়। এই আন্দোলনের একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাকিস্তান হয়েছিল বলে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ আমরা নির্মান করতে পেরেছি। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের প্রধান মন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টকে আমন্ত্রণ করে ঢাকায় এনেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওআইসি সম্মেলনে যোগদান করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতানকে আজ বিভিন্ন ইস্যুতে বিভিন্ন ভাবে দেশের স্বার্থের চেয়ে বিদেশীদের স্বার্থে ব্যবহার করে আমাদেও ঐক্য ও সংহতিকে বারবার ধ্বংস করা হচ্ছে। এতে করে আমাদের সার্বিক অর্জনের সফলতা চেয়ে বিশ্ব অর্থনৈতিক শাসক শোষকদের স্বার্থই বেশি আদায় হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমরা জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক মুক্তির স্বার্থে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রতিষ্ঠা সকলের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি।
সরদার শাহাদাত হোসেন
সাংবাদিক, সদস্য ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *