June 23, 2018

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মো. নূরুল আলম তালুকদার সৎ নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালন করছেন

Untitled-1 copyআজিজুল হক পাটওয়ারীঃ

বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. নূরুল আলম তালুকদার আসার পর সংস্থার মধ্যে অনিয়ম ও দূর্নীতির মুক্ত তাহার কাছে নাই কোন স্বজনপ্রীতি। তিনি সৎ নিষ্ঠার সহিত তার অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মো. নূরুল আলম তালুকদার ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে রয়েছে তার বিশাল অবদান। সরকার একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ন সংস্থা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ন সংস্থা বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন এর দায়িত্ব দেওয়া সরকারের সুনাম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে তার সুসর্ম্পক। টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার মাকেশ্বর গ্রামের তালুকদার পরিবারটির অবদান অনেক। এ পরিবারের প্রধান পুরুষ মরহুম আবুল হোসেন তালুকদার। তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী সজ্জন ব্যক্তি। তাঁর স্ত্রী মরহুমা নূরজাহান বেগম ছিলেন একজন সমাজ হিতৈষী ও শিক্ষানুরাগী আদর্শ রমণী। এই দম্পতির তিন পুত্র সন্তানই মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখেন। প্রয়াত এই দম্পতির অন্যসব পরিচয়কে ছাপিয়ে গেছেন তাঁদের এই তিন পুত্র সন্তান। মেধাবী, গুণী ও আলোকিত এই সন্তানেরা দেশ-মাতৃকার মঙ্গল চিন্তায় উদ্ভাসিত। দেশের মহান মুক্তিসংগ্রামের প্রস্তুতিপর্ব, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাত্তোর দেশগঠন প্রক্রিয়ায় আবুল হোসেন দম্পতির অনুসৃত নীতি ও আদর্শকে পাথেয় করে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র এবং ব্যক্তি জীবনের পথ চলছেন তাঁদের আদর্শবান এই সন্তানেরা। তাঁরা হলেন মো. নূরুল হক তালুকদার, মো. নূরুজ্জামান তালুকদার এবং মো. নূরুল আলম তালুকদার। এই তিন সহোদরই ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতার পর বিত্ত-বৈভবের কথা চিন্তা করেননি তাঁরা। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে সরকারি চাকুরিতে মনোনিবেশ করেন তাঁরা। মেজর (অব.) নূরুল হক তালুকদার : রাজনীতি সচেতন পিতা-মাতার প্রথম সন্তান তিনি। বৃটিশ উপনিবেশিকতার রাহুমুক্তির পর এদেশের মানুষ পাকিস্তানী উপনিবেশিকতার শৃঙ্খলে বন্দি হয়েছে। স্কুল জীবন থেকেই এ উপলব্ধি ব্যথিত করত নূরুল হক তালুকদারকে। এ উপলব্ধি তাঁর মানসে  পরাধীনতার গ্লানি, বঞ্চনা ও শোষণ থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে বাধ্য করে।  তাই কলেজ জীবনের শুরুতেই ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপর। মহান এই নেতার হাত ধরেই যে এ জনপদের মানুষের মুক্তি মিলবে, এ বিশ্বাস জন্মেছিল তাঁর। এসময় তিনি ভূয়াপুর কলেজ ছাত্রলীগের নেতা। স্থানীয় ছাত্রদের স্বৈর শাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত করতে থাকেন। পশ্চিমাদের নিপীড়ন ১৯৬৯’র গণ-আন্দোলন অনিবার্য করে তুললো। ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের মুক্তির প্রশ্নে জাতির রক্তে তখন দ্রোহের দাবানল। নূরুল হক তালুকদার এলাকায় গণ-আন্দোলনে ছাত্র সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের নেতৃত্বে চলে এলেন। তাদের সংগঠিত করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এরপর আসে ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন। এসময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের পক্ষে ম্যান্ডেট গ্রহণে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। তিনি নিজ গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করেন। এ সমাবেশে বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দের মধ্যে মরহুম সামছুর রহমান খান, জনাব আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, জনাব ফজলুর রহমান খান ফারুক, প্রয়াত হাতেম আলী তালুকদার এবং প্রয়াত বদিউজ্জামান খানসহ এলাকার গণ্যমান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানী শাসকচক্রের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার চক্রান্ত চলছিলই। ন্যাক্কারজনক এ চক্রান্তের প্রতিবাদে একাত্তুরের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক দিক নির্দেশনা দিলেন। একজন ছাত্রনেতা হিসেবে দেশের স্বার্থে জীবন বাজি রাখার প্রশ্নেও কোন দ্বিধা ছিল না তাঁর। এসময় তিনি তাঁর এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন এবং সাহসিকতার সাথে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি বঙ্গবন্ধুর নবসৃষ্ট রক্ষীবাহিনীতে যোগ দেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার মহান ব্রতে আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে ক্ষমতার পট-পরিবর্তনের পর তিনি রক্ষীবাহিনী থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এ বাহিনীতে থেকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার কাজ করে পেশাজীবন শেষ করেন। সাফল্যমন্ডিত সেনাবাহিনীর চাকুরি শেষে অবসর গ্রহণের পরও দেশ-মাতৃকার জন্য টান রয়ে গেছে তাঁর। বীর এই মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে জড়িত আছেন। নিজ এলাকার সামাজিক উন্নয়নে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে যুক্ত। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা তথা দেশড়গার মহান কাজে আজও নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। মো. নূরুজ্জামান তালুকদার: আবুল হোসেন তালুকদারের এই সন্তানইটি শৈশব থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও সাহসী। তিনি  ১৯৬৮ সালে এস.এস.সি এবং ১৯৭০ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেন। আর বিএসসি পাশ করেন স্বাধীনতার পর। মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার পারিবারিক শিক্ষার বাইরে ছিলেন না তিনিও। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনিও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।  এসময় সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও দেশীয় দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। যুদ্ধকালীন নয় মাসে তিনি টাঙ্গাইলে অনেক সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ন হন। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত নিয়মিত যুদ্ধ করেছেন তিনি। যুবক যোদ্ধা নূরুজ্জামান গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে  অসামান্য সাহসিকতার স্বাক্ষর রাখেন। তিনি যুদ্ধ শেষে বিএসসি পাশের পর সরকারের শুল্ক বিভাগে চাকুরীতে যোগদান করেন। পেশা জীবনে তিনি নিজ যোগ্যতা বলে কাস্টমস্ অফিসার কল্যাণ সমিতির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব অর্জন করেন। এ সেক্টরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সর্বশেষ তিনি শুল্ক বিভাগের সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবন শেষে নিরবচ্ছিন্ন অলস অবসর নিয়ে নেননি তিনি। নিজ এলাকায় স্কুল, কলেজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনাসহ বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। তিনি বাঙালী জাতীয়তাবাদ এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রাখার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। নিজ এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকান্ড, সংগঠন ও সকল প্রকার আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন অব্যাহত রেখেছেন জনাব নূরুজ্জামান তালুকদার। ড. মোঃ নূরুল আলম তালুকদার : শিক্ষাজীবনে তিনি উজ্জ্বল মেধার পরিচয় দিয়ে ১৯৬৯ সালে এস.এস.সি এবং ১৯৭১ (১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত) সালে এইচ.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থশাস্ত্রে অনার্স ডিগ্রী লাভ করেন। পরবর্তী বছর ঐ একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর ১৯৯০ সালে ড. তালুকদার কৃষি অর্থনীতিতে এম.এস ডিগ্রী অর্জন করেন।২০০৭ সালে পি.এইচ.ডি ডিগ্রী লাভ করেন তিনি। অগ্রজদের সাথে তিনিও ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিসংগ্রামে যোগ দেন। তখন তাঁর বয়স মাত্র সতের বছর বয়স। যুদ্ধের সময় তিনিও অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে শত্রুর মোকাবেলা করেন। যুদ্ধের মাঝামাঝি মুক্তিযোদ্ধারা ভূয়াপুরের যমুনা নদীর তীরে পাক-সেনাদের দু’টি যুদ্ধজাহান আক্রমণ এবং দখল করে  নেন। এসময় তাঁরা জাহাজ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সংগ্রহ করেন। সংগৃহীত এসব অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সংরক্ষণের জন্য তালুকদার বাড়িটিকে অস্থায়ী ভান্ডার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উল্লেখ্য একাত্তরের সেপ্টেম্বরে মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আলম তালুকদারকে স্থানীয় রাজাকার বাহিনী তাঁর নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। আল্লাহর রহমত এবং বাবা-মায়ের দোয়া ছিল তাঁর উপর। এ কারণে তিনি রাজাকারদের হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করতে সক্ষম হন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, রাজাকারদের হাত থেকে সন্তানকে মুক্ত করতে  তাঁর মা মহিয়শী নারী নূরজাহান বেগম বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ড. তালুকদারের পেশাজীবনের শুরু ১৯৮০ সালে; বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে। পেশাজীবনে দক্ষতা, নিষ্ঠা ও মেধার পরিচয় দিয়ে ১৯৯২ সালের মধ্যে সহকারী মহাব্যবস্থাপক পদে উত্তীর্ণ হন। এরপর ১৯৯৬ সালে নবগঠিত আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে উপ-মহাব্যবস্থাপক পদে যোগদান করেন। তিনি ২০০১ সালে মহাব্যবস্থাপক এবং ২০০৯ সালে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পদোন্নতি পান। ২০১১ সালের ১৩ জুলাই থেকে অদ্যাবধি তিনি সরকারের বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি)-এ কর্মরত আছেন। ব্যাংকিং পেশার শীর্ষতম পদে অধিষ্ঠিত থেকেও তিনি আজও সমান উদ্দ্যমী এবং নিরলস ও নিষ্ঠাবান। এ পেশায় তাঁর লব্ধ অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা  প্রসংশার দাবীদার। যুগের চাহিদা ও সরকারের নীতি ও উদ্দেশ্যে বাস্তবায়নে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একজন নির্বাহী। ব্যাংকিং সেবা, প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং এ পেশায় যুগোপযোগী সংস্কার ও পরির্তন ত্বরান্বিত করণে তাঁর পারঙ্গমতা প্রশংসনীয়। বিগত সাড়ে তিন বছরে বিএইচবিএফসি’র সফল ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। এ প্রতিষ্ঠানটিতে তাঁর সূচিত সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির ফলে সেবা ও ব্যবসায়িক কর্মকান্ডে ক্রমঃ অগ্রগতি যেন অন্যান্য এক বিপ্লবেরই নামান্তর। এই তিন সহোদর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটি স্বাধীনতাপূর্ব পটভূমিতে পূর্ব-পাকিস্তানের স্বার্থ-সংক্রান্ত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে। মুক্তিযুদ্ধে মরহুমা নূরজাহান বেগমের অনবদ্য অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একাত্তুরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মরহুম আবুল হোসেনের বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও খাদ্য-খাবারের নির্ভরযোগ্য উৎসস্থল হয়ে ওঠে। নূরজাহান বেগমের সৌজন্যে এটি আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবাকেন্দ্রে পরিণত হয়। তিনি আহত মুক্তিযোদ্ধাদের মায়ের মমতায় সেবাশুশ্রুষা করেন এবং জীবনবাজী রেখে তাঁদের জন্য নিয়মিত আহারের ব্যবস্থা করতেন। নূরজাহান বেগম মুক্তিযোদ্ধাদের সদা সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়ে তাঁদের মানসিকভাবে শক্তি যুগিয়েছেন। তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য আজও টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধাগণ তাঁকে ‘আদর্শ মা’ হিসেবে গর্বভরে স্মরণ করেন। অপরদিকে যুদ্ধের শেষদিকে রাজাকারদের বন্দিশালা হিসেবেও বাড়ীটির খ্যাতি রয়েছে।  বঙ্গবন্ধুর একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন নূরজাহান বেগম। তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিটি কর্মকান্ডে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত রেখেছেন নিজেকে। তাই ১৯৭০ সালে আওয়ামীলীগের বিপুল বিজয়ে তাঁর আবেগ ও অনুভূতি ছিল বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো। এ অনুভূতি জানাতে তিনি তাঁর পুত্রদের সাথে নিয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে যান এবং বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করেন। আবুল হোসেন-নূরজাহান দম্পতি তাঁদের শ্রেষ্ঠতম সম্পদ তিন পুত্র সন্তানকেই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সম্মুখ যুদ্ধে  অংশগ্রহণের জন্য উৎসর্গ করেন।  তাঁদের যোগ্য উত্তরসুরী হিসেবে এই তিন সন্তান যেমন মহান মুক্তিযু্েদ্ধ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন, তেমনি যুদ্ধ শেষে দেশ গঠন ও সমাজসেবামূলক কাজে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। এভাবে তাঁরা টাঙ্গাইল জেলার কৃতিসন্তান হিসেবে নিজেদের স্ব-মহিমায় উদ্ভাসিত করতে সক্ষম হয়েছেন। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সহোদর এই তিন মুক্তিযোদ্ধা একাত্তরের ন্যায় যে কোন ত্যাগ স্বীকারে এখনও প্রস্তুত। ঘাটাইলের মাকেশ্বর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই পরিবারটি যুগযুগ ধরে এলাকার সামাজিক উন্নয়ন ও শিক্ষা বিস্তারে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও করে যাবে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *