October 16, 2018

এইমাত্র পাওয়া সংবাদ

টাঙ্গাইল সদরের কেন্দ্রস্থল সমবায় সুপার মার্কেট সদস্যদের মাঝে বুঝিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

সরদার শাহাদাৎ হোসেন : আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি রাউন্ড টেবিলে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিঃ এর মালিকানাধীন টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সমবায় সুপার মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিক ব্যবসায়ীদের সাংবাদিক সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় নিম্নে উল্লেখিত দাবীগুলো তুলে ধরেন।
টাঙ্গাইল সমবায় ব্যাংক লিমিটেড তার নিজস্ব প্রায় ৫০ শতাংশ ভূমির উপর ১৯৮২ সালে ছয় তলার ফাউন্ডেশন দিয়ে দোতলা মার্কেট ও ব্যাংক ভবন নির্মাণ করে। মার্কেটে দোকানঘর হয় প্রায় ১৫০টি এবং এই মার্কেটের নাম দেয়া হয় ‘সমবায় সুপার মার্কেট’।
মার্কেটটি নির্মাণের পর আমরা মোটা টাকার বিনিময়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে একেকটি দোকানের পজেশন ক্রয় করি এবং পজেশন ক্রেতা ব্যবসায়ী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মধ্যে চুক্তিপত্র সম্পাদনের মাধ্যমে যার যার দোকানের দখল বুঝে পেয়ে ব্যবসা শুরু করি।
আমরা দরিদ্র দোকান মালিকরা কেউ কেউ জমি বা বাড়ি বন্ধক রেখে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে এবং কেউ কেউ জমি বিক্রির টাকায় দোকান ব্যবসা শুরু করি। একেক জনের কয়েক লক্ষ টাকা করে বিনিয়োগ ও নিরলস পরিশ্রমের বিনিময়ে মার্কেটটি প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলায় ও জেলার বাইরেও মার্কেটটির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে।
এই মার্কেটে ব্যবসায়ের উপার্জনই আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। আমাদের ব্যবসা দাঁড় করাতে গিয়ে অনেকের নেয়া ব্যাংক লোন এখনও পরিশোধ হয়নি।
এই অবস্থায় সমবায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে কোনরূপ আলোচনা ছাড়াই তথাকথিত উন্নয়নের নামে মার্কেটটি ভেঙ্গে ১০ তলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিগত ০১-১২-২০১৩ইং তারিখে একটি একতরফা অন্যায় নোটিশের প্রদানের মাধ্যমে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের যার যার দোকানের মালামাল সরিয়ে দিয়ে দোকানের দখল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আমরা আপত্তি জানিয়ে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন জানানোর পর প্রতিকার না পেয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জনাব শহীদুর রহমান খান মুক্তির শরণাপন্ন হলে তিনি উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার কথা বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বৈঠকে উপস্থিত না হয়ে জোরবলে আমাদের উচ্ছেদের উদ্যোগ নেন।
কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোন আইন ও নিয়মের তোয়াক্কা না করে বিগত ১৯-০৪-২০১৪ইং তারিখে স্থানীয় একটি পত্রিকায় মার্কেটটি বিক্রি করার নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে এবং মাত্র ২৫ লক্ষ টাকায় তা নিলামে বিক্রয় করে। নিলাম ক্রয়কারীকে দ্বিতল মার্কেট ভেঙ্গে নেয়ার কার্যাদেশ দেয়াসহ সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দোকানগুলোর মালামাল অপসারণ করিয়ে ইতিমধ্যেই মার্কেট ভাঙ্গার কাজ শুরু করানো হয়েছে।
আমরা আমাদের দোকানঘর ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে কোন আলোচনা না করে বরং গত ১৬ এপ্রিল তাদের পেটোয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নিরীহ ব্যবসায়ীদের উপর হামলা চালায়। এসময় ব্যবসায়ীরা প্রাণভয়ে ছুটে পালায় এবং ঐদিনই পরবর্তী সময়ে আমরা কয়েকজন ব্যবসায়ী সংগঠিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেই।
এরপর ও বিষয়টির কোন সুরাহা হয়নি বরং ব্যাংকের পক্ষে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবসায়ীদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে নেতৃত্বকারীদের বাড়ীতে গিয়ে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
গত ১৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষেও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে আমরা টাঙ্গাইল শহরের নিরালার মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করতে গেলে শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী আমাদের উপর হামলা চালিয়ে আমাদের অনেককে আহত করে।
আমরা কোথাও গিয়ে কোন প্রতিকার না পেয়ে অসহায় অবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করছি। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করারও সুযোগ পাচ্ছি না।
সমবায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাধারণ ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা না করে, কোন নিয়ম-নীতি ও আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে এবং নিরীহ ও দরিদ্র ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীদের মানবিক দিক বিবেচনায় না নিয়ে অন্যায়ভাবে নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে একগুয়েমির পিছনে অসৎ স্বার্থান্বেষী একটি কুচক্রীমহল বিশেষ করে শহরের একটি দখলবাজ সন্ত্রাসী পরিবারের মদদ রয়েছে। এই পরিবারে কাছে শুধু সমবায় মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জিম্মি নয়, এই পরিবারের কাছে যেন টাঙ্গাইলবাসী এবং জেলা ও পুলিশ প্রশাসনও জিম্মি। আমরা তাদের হায়েনার মতো ভয়ঙ্কর থাবা থেকে বাঁচতে চাই। নিরীহ ব্যবসায়ীদের আজ পথে বসানো হয়েছে। তারা বলেন যেহেতু জেলা আ’লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারী অনিয়মতান্ত্রিকভাবে দখল করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে আমরা গরীব ব্যবসায়ীরা আমাদের মার্কেট ফিরে পেতে হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *